এখন টিভির প্রতিবেদনের পর পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হচ্ছে মিরপুর শতবর্ষী রেলস্টেশন

মিরপুর শতবর্ষী রেলস্টেশন
মিরপুর শতবর্ষী রেলস্টেশন | ছবি: এখন টিভি
0

চলতি মাস থেকেই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে যাচ্ছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার শতবর্ষী রেলস্টেশনের কার্যক্রম। এ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। শতবছরের পুরনো মিরপুরের রেলস্টেশনের করুণ অবস্থা নিয়ে খবর প্রচার করে এখন টেলিভিশন। এরপরেই এ পদক্ষেপ নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

কুষ্টিয়ার শতবর্ষী মিরপুর রেলস্টেশনের বেহাল দশা ও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার হয় এখন টেলিভিশনে। এরপরেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সামাজিক সংগঠনও। সংবাদে উঠে আসে জেলার অন্যতম এই রেলস্টেশনের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতা ও কর্তৃপক্ষের অবহেলার চিত্র। ভোগান্তিতে আশপাশের প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। মাত্র দুজন কর্মচারী দিয়ে কোনোমতে চলছিল কার্যক্রম। স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং পূর্বের যাত্রাবিরতি দেয়া ট্রেনগুলোর স্টপেজ পুনর্বহালের দাবিও উঠে আসে প্রতিবেদনে।

এলাকাবাসি জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে মিরপুর রেলস্টেশন থেকে যাতায়াতকারীদের ভালো হবে বলেন তারা।

সংবাদ প্রচারের পর অ্যাডভোকেট এইচএম রাশিদুল ইসলাম গত ৬ আগস্ট আইনি নোটিশ পাঠান রেলওয়ে মহাপরিচালকের কাছে। এর প্রেক্ষিতে দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশীর বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আব্দুল হানিফের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, মিরপুর রেলস্টেশন পূর্ণাঙ্গভাবে চালু রেখে নির্ধারিত ট্রেনগুলোর যাত্রাবিরতি, টিকিট বিক্রিসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে।

বিইউবিটি লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এইচ এম রাশিদুল ইসলাম, ‘স্টেশনটি চালু করার জন্য যে অধিকারটি রয়েছে, সেটি আমি আইনগতভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে একটি আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

মিরপুর স্টেশন মাস্টার ইসরাইল হোসেন বলেন, ‘প্রত্যেকটা ট্রেন চলবে, সিগন্যালিং ব্যবস্থাও ঠিক আছে। আমাদের পক্ষ থেকে সুন্দর একটা সেবা দেয়ার চেষ্টা করবো।’

মিরপুর স্টেশনটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে এ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ১৫ লাখ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরবে, অন্যদিকে শত বছরের পুরনো ঐতিহ্য সমুন্নত থাকবে বলে মনে করছেন এলাকার বাসিন্দারা।

জেআর