দক্ষ জনবলের অভাবে চালু হচ্ছে না ১১ কোটি টাকার কসাইখানা

বগুড়ার কসাইখানা
বগুড়ার কসাইখানা | ছবি: এখন টিভি
0

উদ্বোধনের চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো চালু হয়নি প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বগুড়ার আধুনিক কসাইখানা। স্বল্প সময়ে, স্বল্প খরচে মাংস প্রস্তুত করতে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা হলেও দক্ষ জনবলের অভাবে তা চালু করা যাচ্ছে না বলে জানান সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। এদিকে আধুনিক কসাইখানার সুবিধা পেতে দ্রুত চালু করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোলা জায়গায় চলছে পশু জবাই। যেখানে সেখানে পশু জবাইয়ের বর্জ্য পড়ে থাকছে দিনভর। এসব বর্জ্যের ভাগাড় থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ও রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে।

আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে এবং নিরাপদ মাংস প্রস্তুত করতে শহরের জয়পুরপাড়ায় নির্মাণ করা হয় আধুনিক কসাইখানা। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই কসাইখানায় প্রতি ঘণ্টায় ১৫টি গরু ও ৩০টি ছাগল প্রস্তুত করা যাবে। উদ্বোধনের প্রায় চার মাস পরেও চালু না হওয়া এই কসাইখানা দ্রুত চালু করার দাবি স্থানীয় কসাইদের।

কসাইদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এলাকাবাসীর, তারপর পথচারীদের খুব সমস্যা হয়। বিচ্ছিরি গন্ধ হয় রোদ উঠলে। মানে এমন গন্ধ বাড়ায় যে থাকা যায় না।’

অন্য একজন বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় জবাই করার কারণে ময়লা ফেলার কারণে, আবর্জনা ফেলার কারণে গন্ধ ছড়ায় তো, সেইজন্যই ওখানে কিলখানা হচ্ছে। কিলখানাটা চালু হলে আবার ভালো হবে।’

একজন কসাই বলেন, ‘ওখানে গরু জবাই করলে আবর্জনা-ময়লা হবে না, দূষিত মুক্ত হবে, ওখানে সবকিছু ক্লিয়ার পাবো। অতএব আমাগরে সুবিধা হবে, আমরা সগলেই (সবাই) ওখানে গরু জবাই করে আসবো।’

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংসের নিশ্চয়তা পেতে চান সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই হলে যেমন পরিবেশ দূষণ কমবে, তেমনি ভালো মানের মাংসের নিশ্চয়তা থাকবে।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘অনেকদিন আগেই শুনেছি যে উদ্বোধন হইছে, আমরা এখনো তার রেজাল্ট পাইনি। বাস্তবতা আমরা সরাসরি এখনো দেখতে পাইনি।’

অন্য একজন বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব করলে আমাদের স্বাস্থ্যসম্মত যে বলন, তারপরে মানসম্মত গোস্ত বা মাংস পাওয়া যাবে।’

স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা আশা করবো প্রাণিসম্পদ বিভাগ দ্রুত এই কসাইখানা, বন্ধ কসাইখানাগুলো যেগুলো সরকার উদ্বোধন করে গেছে মন্ত্রী মহোদয়, দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করবে।’

কসাইখানাটি নির্মাণ শেষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। এদিকে দক্ষ জনবলের অভাবে এখনো কসাইখানাটি চালু করা যায়নি। সম্প্রতি টেন্ডারের মাধ্যমে কসাইখানাটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ সাঈদ আলী বলেন, ‘মিট প্রসেসিং যারা করে এই এলাকাতে, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। কিন্তু তারাও এটাকে মানে ইকোনমিকালি তাদের জন্য ইকোনমিকালি তারা ভায়াবল মনে করে নাই। এই কারণে তারা আগ্রহ দেখায় নাই। আমরা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এখন এটা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিছি এবং এটা যদি কেউ নেয়, তারা যদি পরিচালনা করতে পারে তাহলে বগুড়াবাসী এটার নিঃসন্দেহে উপকার পাবে।’

গত ১৭ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বগুড়া শহরের জয়পুরপাড়ায় এই কসাইখানাটি উদ্বোধন করেন।

এসএস