তিন বছরের রেকর্ড ছাড়ালো চট্টগ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা

চমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড
চমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ড | ছবি: এখন টিভি
0

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এবার গত তিন বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এরইমধ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৫ হাজার ৭৫৪ জন। মহানগরের পাশাপাশি উপজেলাগুলোতেও বাড়ছে সংক্রমণ। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলোতে ঠাঁই নেই। বাড়তি জনবল দিয়ে রোগীর চাপ সামাল দিতে হচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় সাধারণ মানুষকে বাসা-বাড়ির আঙ্গিনা ও জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কারের তাগাদা দিচ্ছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে কোনো সিট খালি নেই। বরং ৫০ শয্যার এ ডেঙ্গু ওয়ার্ডে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকছেন দুই থেকে তিন গুণ। জায়গা না পেয়ে অনেকের ঠাঁই হচ্ছে মেঝে কিংবা বারান্দায়।

জ্বর ও ডেঙ্গু নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন রোগীরা। সরকারি-বেসরকারি কোথাও শয্যা খালি নেই।

রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘টেস্ট করালাম, টেস্ট করানোর পরে ডেঙ্গু ধরা খাইছে। এখানে ভর্তি হয়েছি, এখন আগের চেয়ে বেটার আছি।’

বছরের ১০ মাসে গত তিন বছরের মধ্যে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ আক্রান্ত হয়েছে চট্টগ্রামবাসী। অক্টোবরের প্রথম ১৪ দিন পর্যন্ত আক্রান্ত ছয় হাজার ছুঁইছুঁই, যা গত বছরের চেয়ে প্রায় এক হাজার বেশি। মৃত্যুর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় বেশি। এ মাসের বাকি ১৫ দিন ও আগামী মাসে আক্রান্তের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা চিকিৎসকদের।

আরও পড়ুন:

চমেক হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. এ এস এম জাহেদ বলেন, ‘আশপাশের যে পরিবেশ, এই দেখেন বৃষ্টি একটা হয়ে গেলো, এরপর আবার রোদ। তার মানে ছোট ছোট অনেক জায়গায় পানি জমতেছে। আবার এই ধরনের হিউমিড ওয়েদার, ওইটাতে আবার ডেঙ্গু মশাগুলো আবার ফুটতেছে। এরকম যতদিন চলতে থাকবে, ডেঙ্গুগুলো আসলে এখন মানে শীত পর্যন্ত কম-বেশি থাকবে।’

বর্তমানে অনেক রোগী ডেঙ্গু জ্বরের পাশাপাশি ডায়রিয়া, বমি, তীব্র পেট ব্যথাসহ শক সিন্ড্রোম নিয়ে হাসপাতালে আসছেন।

চমেক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (মেডিসিন) ডা. সাইফুল ইসলাম আরজু বলেন, ‘ডেঙ্গু পজিটিভ পেশেন্ট যখন একেবারেই খেতে পারবে না কিছু, দিনে পাঁচবারের বেশি বমি হওয়া বা দিনে পাঁচবারের বেশি ডায়রিয়া হওয়া, তীব্র পেটে ব্যথা, হঠাৎ করে প্রেশার কমে যাওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া—এই ধরনের উপসর্গ দেখা যখন দেখা দিবে, তখন অবশ্যই তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে, ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।’

মহানগরে আটটি হটস্পট নির্ধারণ করেছে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য বিভাগ। এছাড়া উপজেলাগুলোর মধ্যে সীতাকুণ্ডকে হটস্পট হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি উপজেলায় আক্রান্ত ছাড়িয়েছে আড়াই হাজার।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. সাজেদুর রহমান বলেন, ‘কিটতত্ত্ববিদদের দিয়ে আমরা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে আমরা একটা গবেষণা চালিয়েছি, কোন জায়গাতে কন্টেইনার ইনডেক্স, ব্রুটো ইনডেক্স এবং হাউস ইনডেক্স—লার্ভার পরিমাণটা বেশি।’

চট্টগ্রামে গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ০৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছিল ডেঙ্গুতে। ওই বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয় ১০৭ জনের।

এসএস