প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ; ২ কোটি টাকায় বাড়ি কিনে আলোচনায় কর্মচারী

ভোলা জেলা পরিষদ কার্যালয়
ভোলা জেলা পরিষদ কার্যালয় | ছবি: সংগৃহীত
0

ভোলা জেলা পরিষদের উন্নয়ন ও রাজস্ব খাতের প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৬ কোটি ২৭ লাখ টাকার অনুমোদিত ২৭৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৫৬টি প্রকল্প পরিবারের সদস্যদের নামে নেয়ার অভিযোগ নিম্নমান সহকারী রায়হান মল্লিকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও কাজ না করে বিল তোলা, সরকারি জমি বন্দোবস্তের অর্থ গ্রহণ এবং স্বজনদের নামে দোকান বরাদ্দের অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি দুই কোটি টাকায় চারতলা বাড়ি কেনার তথ্য সামনে আসায়- প্রশ্ন উঠেছে তার সম্পদ নিয়েও।

ভোলা জেলা পরিষদের প্রকল্প বণ্টন ও বাস্তবায়ন ঘিরে উঠেছে অনিয়মের অভিযোগ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪৯টি ও রাজস্ব খাতে ৮২ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেয়া হয় ২৩টি প্রকল্পের। অভিযোগ উঠেছে, এর মধ্যে ৫৬টি প্রকল্প পরিবারের সদস্যদের নামে নিয়েছেন জেলা পরিষদের নিম্নমান সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর রায়হান মল্লিক।

২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর জেলা পরিষদ হিসাবরক্ষকের পদ শূন্য হলে প্রভাব খাটিয়ে দায়িত্ব নেন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী রায়হান মল্লিক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি স্ত্রী ও মেয়ের নামে জেলা পরিষদের একাধিক দোকান ও মার্কেট বরাদ্দ নিয়েছেন। বিভিন্ন মসজিদ-মাদ্রাসার নামে প্রকল্পের কাজ না করেই বিল উত্তোলন করেছেন। সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা জানান, একাধিক মানুষের সঙ্গে তার ঝামেলা। মানুষের ঘরদুয়ার নিয়ে ঝামেলা করে। মসজিদ নামে যে টাকা এসেছে সেই টাকার কোনো কাজ তরা হয়নি।

এসব অভিযোগের মধ্যেই জানা গেছে, ভোলা শহরে দুই কোটি পাঁচ লাখ টাকায় একটি চারতলা বাড়ি কিনেছেন রায়হান মল্লিক। তৃতীয় শ্রেণির একজন কর্মচারীর এত ব্যয়বহুল বাড়ি কেনায় তার সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।

ভোলা জেলার সুজন সভাপতি মোবাশ্বির উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এখানে চরম দুর্নীতি হচ্ছে, এটি ওপর থেকেই শক্তিশালী টিম এনে দেখা উচিত, কোন প্রকল্পে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে এবং যথাযথ জায়গায় প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে কি না সেটি দেখা উচিত।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি অভিযুক্ত রায়হান মল্লিক।

ক্যামেরার সামনে বক্তব্য পাওয়া যায়নি জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তারও। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক।

ভোলার জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, ‘কোনো বরাদ্দ দেয়ার পেছনে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে, করে থাকে আমার কাছে দিলে আমি অবশ্যই এটা ইনকয়ারি করে এটার শাস্তিমূলক যেটা ব্যবস্থা করা উচিত, সেটা আমি ইনশাল্লাহ গ্রহণ করব।’

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার আর আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রশ্ন—সব মিলিয়ে ভোলা জেলা পরিষদের এক কর্মচারীকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

এফএস