হাতিয়ায় মডেল মসজিদ নির্মাণে ধীরগতি, ব্যয় বৃদ্ধির অভিযোগ

নির্মাণাধীন হাতিয়ায় মডেল মসজিদ
নির্মাণাধীন হাতিয়ায় মডেল মসজিদ | ছবি: এখন টিভি
0

ছয় বছরেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ। ২০২২ এর কাজ ২০২৬ সালে শেষ না হলেও অসদুপায়ে ব্যয় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গণপূর্ত বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায় চাপিয়েছে এনে অন্যের ঘাড়ে।

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০২০-২১ অর্থবছরে। এর ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৫ কোটি টাকা। নোয়াখালীর মের্সাস খান এন্টারপ্রাইজ, মের্সাস ওসমান গনি ও মের্সাস দেশবাংলা এন্টারপ্রাইজকে যৌথভাবে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়।

২০২২ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো প্রায় ৩৪ শতাংশ কাজ বাকি। নির্ধারিত সময়ের চার বছর পার হলেও শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ মুসল্লিরা।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘যেই মসজিদে কইছি এই মসজিদে উঠি আমরা বয়স্ক যারা এরাম যে নামাজ পড়ুম এই কোনো ব্যবস্থা নাই। আর যে কাজগুলো ধরছে, কাজগুলো অনেকগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, অনেকগুলো শেওলা ধরে গেছে। আর যে রডগুলো, রডগুলো অনেকগুলো মরিচা ফুটে গেছে, ভবিষ্যতে মসজিদটা কয়দিন থাকবে সেটা আমরা জানি না।’

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় মসজিদটির পূর্ণাঙ্গ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মুসল্লিরা। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে মসজিদটি ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুন:

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘মুসল্লিরা যারা আছে আমরা অতিবিলম্বে এ আমরা এই কাজটা শেষ হোক এটা আমরা আশাবাদী। এখন পর্যন্ত তিনজন ১০ জন ছাড়া কোনো লেবার নাই। সঠিক লেবার দিয়ে কাজ করে না।’

নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার পাশাপাশি প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে মসজিদটির নির্মাণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ, যার বর্তমান ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ কোটি টাকা। নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে দায়ী করছেন ঠিকাদার।

ঠিকাদার ওসমান গনি বলেন, ‘পূর্বের যে এস্টিমেট ছিল ওইখানে অনেকগুলো আইটেম ছিল না। যেমন আপনার রিজার্ভার, আপনার আরসিসি অনেকগুলো ওয়াক, আর যখন ডিজাইন চেঞ্জ হয়ে গেছে, স্থান পরিবর্তন হয়ে গেছে, পুকুরের মধ্যে চলে গেছে, তখন তো অটোমেটিকভাবে টাকা বাড়বে।’

গণপূর্ত বিভাগ বলছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে একাধিকবার চিঠি দিয়ে তাগিদ দেয়া হয়েছে।

নোয়াখালী গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব বলেন, ‘আমি আইস্যা তো কাজটা বন্ধই পাইছি, পরে আমি চালু করার চেষ্টা করছি, এখন মোটামুটি করতাছে। আর আমরা উনার যে নোটিশ আছে এগুলো জানিয়ে দিছি। উনারা ব্যবস্থা নিবে।’

হাতিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি ব্যয় বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি স্থানীয়দের।

এসএস