আজ (শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর) রাতে ভিডিও বার্তায় এ ঘোষণা দেন সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। তৃতীয় দফার অবরোধের নবম দিনে এসে এই সিদ্ধান্ত নিল আন্দোলনকারীরা। একই সঙ্গে পাহাড়ের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মাসব্যাপী কঠিন চীবর দান উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের স্বার্থে ভিক্ষুদের যাতায়াতেও বিশেষ শিথিলতার কথাও জানিয়েছে সংগঠন দুটি। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিহার কর্তৃপক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
মূলত বেহাত হওয়া সাজেক থেকে প্রতিপক্ষ জেএসএস অস্ত্রধারীদের সরানোর দাবিতে গেল ১১ ও ১৫ অক্টোবর দুই দফায় এবং সর্বশেষ তৃতীয় দফায় ২২ অক্টোবর থেকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি।
সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকায় বন্ধ রয়েছে পর্যটক প্রবেশ ও যানবাহন চলাচলও। এতে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাজেক। অবরোধে সাজেকের পর্যটন ব্যবসা, স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে প্রভাব পড়ছে।
এতে দৈনিক এক কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হচ্ছেন পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্টরা । দুর্গম এলাকাগুলোতে দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও ওষুধের সংকটের আশঙ্কা। প্রায় ৩০ হাজার বাসিন্দার এই জনপদে সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় তৈরি হয়েছে মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা।
এ পরিস্থিতি নিরসনে গত ২৫ অক্টোবর তিন সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে প্রশাসন। পরদিন ২৬ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানসহ দুই জেলার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাজেকের উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রায় তিন ঘণ্টার আলোচনায় পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়। কিন্তু চতুর্থ দফা- ‘সাজেক থেকে সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদেরকে সরিয়ে নেয়ার দাবি’র বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হওয়ায় সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেনি সংগঠন দুটি।
এর আগে প্রথম দফায় ১১ অক্টোবর সড়ক অবরোধের কারণে দেড় হাজার পর্যটক আটকা পড়লে প্রশাসনের আশ্বাসে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। পরে ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় অবরোধ শুরু হলেও শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তা স্থগিত রাখা হয়।
পরে আবারও ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হয় তৃতীয় দফার অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। এরমধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক।





