টাঙ্গাইলে ধর্ষণ-হত্যাচেষ্টা: ভুক্তভোগী শিশুকে দেখতে হাসপাতালে প্রতিমন্ত্রী টুকু

হাসপাতালে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
হাসপাতালে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু | ছবি: এখন টিভি
0

টাঙ্গাইলে সাড়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের ঘটনায় গভীর রাতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। গতকাল (শনিবার, ৩১ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে ঢাকা থেকে সরাসরি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন তিনি।

এসময় শিশুটির মা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি শিশুটির উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় নেয়ার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশকে নির্দেশ দেন।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। এটি দেখার পর সবাই মর্মাহত হয়েছেন। এ ধরনের জঘন্যতম ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে প্রশাসনের সব পর্যায়ে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ পদক্ষেপ নেবো, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়। একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা অবশ্যই গ্রহণ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবে।’

শিশুটির চিকিৎসার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে শিশুটির চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার আমি বহন করবো। এখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব না হলে আগামীকালই তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যতদূর শুনেছি, এ ঘটনা যে ঘটিয়েছে সে মাদকাসক্ত। টাঙ্গাইলকে কীভাবে মাদকমুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে আমরা এরই মধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কীভাবে শহরকে নিরাপদ রাখা যায়, অপরাধ ও মাদক কমানো যায়— সে চেষ্টা করছি। এক্ষেত্রে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচ এম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু হানিফ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা।

এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুর রহমান সফিক, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী ও জেলা যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়ি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলায় নির্জন স্থানে শিশুটির ওপর ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। পরিবারের অভিযোগ, এসময় শিশুটি চিৎকার ও বাধা দিলে অভিযুক্ত বিপ্লব (২২) ইট দিয়ে তার মুখ ও নাকে আঘাত করে। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হয়। পরে এক রিকশাচালক তাকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় শনিবার রাতে ধর্ষণচেষ্টা, হত্যাচেষ্টা ও গুরুতর জখমের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

এসএইচ