বিস্ফোরক, গ্যাস, দাহ্য তরলসহ বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ, ডিজি বা বিপজ্জনক কার্গো। শিল্প কারকাখানায় রি এজেন্ট ও কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয় বিভিন্ন ধরনের ডিজি। আন্তর্জাতিক নৌ বাণিজ্য সংস্থার বিশেষ নিয়ম কানুন মেনে ডিজি কার্গো পরিবহন ও সংরক্ষণ করতে হয়। সাধারণ পণ্যের চেয়ে এসব পণ্যের হ্যান্ডলিং চার্জ ও গুদাম ভাড়াও অনেক বেশি। বাজারে দাম কমে যাওয়া, শুল্কায়ন জটিলতাসহ নানা কারণে লোকসান বেশি হলে অনেক সময় এসব পণ্য আমদানির পর খালাস করেন না আমদানিকারক।
চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে বর্তমানে ১০ থেকে ২০ বছরের পুরানো ধ্বংসযোগ্য ৫৭টি বিপজ্জনক পণ্যবাহী কনটেইনার পড়ে আছে। নিরাপত্তার স্বার্থে ও দুর্ঘটনা এড়াতে বন্দর চায় খুব দ্রুত এসব কার্গো অপসারণ বা ধ্বংস করা হোক।
ডিজি কার্গো আমদানিকারক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘পণ্য নিয়ে আসছে ওইটা কাস্টমসের এইচএস কোড চেঞ্জ করেছে বা শুল্ক হার বাড়িয়ে দিয়েছে, ভ্যালু বাড়িয়ে দিয়েছে; তখন আমদানিকারক তা নিতে অনীহা প্রকাশ করে বিধায় এটা পরিত্যক্ত অবস্থায় রাখে।’
আরও পড়ুন
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য হারবার ও মেরিন আহমেদ আমিন আব্দুল্লাহ বলেন, ‘বছরের পর বছর এখানে অনেকগুলো ডেঞ্জারাস কার্গোর আমাদের এখানে রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন রাসায়নিক সাবস্ট্যান্সসহ। ক্ষতিগ্রস্ত যে কনটেইনারগুলো রয়েছে এগুলো অতি দ্রুত এখান থেকে অপসারণ করা দরকার। তা না হলে হয়তোবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির একটা সুযোগ থেকে যায়। আমরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
বিপজ্জনক ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় সাধারণ পণ্যের মতো এসব কার্গো ধ্বংস করা যায় না। এজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হয়। চট্টগ্রামের কাস্টম হাউসের সেই সক্ষমতা না থাকায় সুনামগঞ্জে স্থাপিত সুইস সিমেন্টের ব্র্যান্ড লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশের দ্বারস্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলে প্রাথমিকভাবে ধ্বংস করা হবে ৩২ কনটেইনার ডিজি ।
চট্টগ্রাম হাউসের উপ-কমিশনার মো. শরীফ আল আমিন বলেন, ‘তবে ডিজির ক্ষেত্রে যেহেতু এগুলো এক্সপ্লোসিভ, তারপরে দাহ্য পদার্থ ক্যারি করে; এগুলো ধ্বংস করতে গেলে এটা পরিবেশের কথা মাথায় রাখতে হয়, দেন সেফটি সিকিউরিটির ইস্যুগুলো মাথায় রাখতে হয় এবং কনসার্ন অথরিটি যারা আছে, তাদের কাছ থেকে পারমিশন নিয়ে ৩২টা কনটেইনার ধ্বংস করার জন্য হোলসিমের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, যেটা সুনামগঞ্জে ওনাদের ডেডিকেটেড প্ল্যান্ট আছে।’
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে নিলামের অপেক্ষায় আছে ৩০০ বিপজ্জনক পণ্যবাহী কনটেইনার। ২০২২ সালে ৩২ বক্স ডিজি কার্গো ও ২০২৫ সালে কম ঝুঁকিপূর্ণ ১৩ ডিজি কার্গো ধ্বংস করে কর্তৃপক্ষ।




