শেরপুর সদরের বেতমারি-ঘুঘুরাকান্দি ইউনিয়নের রশীদপুর গ্রামের কৃষক আমির হামজা। গত বছর তিনি প্রথম বারের মতো ১ বিঘা জমিতে জাপানি জাতের মিষ্টি আলু কোকেই চাষ করেন। ভাল ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় বাড়িয়েছে চাষের পরিধি। আর মতো অনেকে চাষ করেছেন এ আলু।
বিঘাতে খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা এবং মুনাফা হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। চারা রোপণের মাত্র ১২০ দিন পর বিক্রির উপযোগী হয়।
এ আলু চাষ করে আগের চেয়ে বেশি ভালোবান হওয়া যায় যেমন। তেমনি গরুর খাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা যায় বলে জানান চাষিরা।
আরও পড়ুন:
কৃষি বিভাগ বলছে, বিশেষ জাতের এ আলু বিঘাতে ফলন হয় প্রায় ৮০ মন পর্যন্ত। চাষে প্রয়োজন হয় না বাড়তি কীটনাশক, সেচ, রাসায়নিক সার ও শ্রমিক। এতে দিন দিন বাড়ছে কৃষকের আগ্রহ। শেরপুর সদরের ৫০ জন কৃষককে বিনামূল্যে মিষ্টি আলুর লতা ও রাসায়নিক সার দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সুপার শপগুলোতে মিষ্টি আলুর চিপস, বিস্কিট ও কেক বেশ জনপ্রিয় বলে জানান জেলার কৃষি কর্মকর্তা।
শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘জাপানি একটি কোম্পানির সহায়তায় এই এলাকার কৃষরা আলু চাষে আগ্রহী হচ্ছে। অধিক চাষ হওয়া দেশের বাহিরেও রপ্তানি করা হচ্ছে।’
মিষ্টি আলুতে রয়েছে, ভিটামিন-এ, সি, খনিজ পদার্থ ও ক্যালসিয়ামসহ অন্যান্যও পুষ্টি উপকরণ। ফলে এ আলু হৃদরোগ, ডায়াবেটিকস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, শেরপুরের ৫ উপজেলায় চলতি বছর ২৫৬ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ হয়েছে। জেলার চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত ২শ' টন আলু রপ্তানি হবে বিদেশে। আয় হবে বৈদেশিক মুদ্রা।





