সংঘবদ্ধ এ দলে ছিলেন ২১ নারীও। এসময় তাদের কাছে পাওয়া যায় শতাধিক মোবাইল ও ৫৬টি ল্যাপটপ । জানা যায়, খুলশী এলাকার ভাড়া নেয়া বাসায় অনলাইন জুয়ার আসর পরিচালনা ও নানা রকম প্রতারণা করতো ৬৩ বিদেশি নাগরিক। এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র জড়িত কিনা? এসব টাকা কোথায় কিভাবে লেনদেন হতো এসব খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নগরীর খুলশী পাহাড়ী এলাকার জালালাবাদে আট তলা রহস্যময় ভবন ঘিরে মধ্যরাতে শুরু হয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযান। ভবনটির ভেতরে বাহিরে ঘিরে ফেলে পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা। টানা অভিযান শেষে সকাল এগারোটার দিকে ভবনটি থেকে একে একে বের করা হয় ৫ দেশের ৬৩ বিদেশি নাগরিককে। যাদের সবাই সংঘবদ্ধভাবে জড়িত অনলাইন জুয়া ও নানা রকম প্রতারণায়।
সংঘবদ্ধ দলে ২১ নারী ছাড়াও পাকিস্তানের ২১, লাওসের ৩৫, চীনের ৫ , নেপাল ও ভিয়েতনামের ২ জন নাগরিক ছিলেন। অভিযানের সময় উদ্ধার করা হয় ১৩১ টি মোবাইল ও ৫৬টি ল্যাপটপ।
পুলিশ জানায়, ভবনটিতে অবস্থান নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন ক্যাসিনো বা জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা করতেন, বসতো জুয়ার আসরও। লেনদেন হতো কোটি কোটি টাকা। ডিভাইসে আর্থিক লেনদেন, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং অনলাইন কার্যক্রমের তথ্য রয়েছে । এছাড়া অনলাইনে নানা রকম প্রতারণায় জড়িত ছিলেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, নতুন এ ভবনটি কয়েক মাস আগে ভাড়া নেন বিদেশিরা। তারা খুব একটা বাইরে না মেশায় কী করেন তা জানতেন না এলাকার কেউ। তবে এমন অপরাধের ঘটনা জানার পর আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পুলিশ জানায় , এদের সঙ্গে কোনো আন্তর্জাতিক চক্র জড়িত কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ব্যাংক হিসাব বা অন্যকোনভাবে টাকা লেনদেন করতেন কীনা এবং বাংলাদেশি কেউ জড়িত কিনা সব খতিয়ে দেখা হবে । গত সপ্তাহে কক্সবাজারেও একটি ভবন থেকে অনলাইন জুয়া ও প্রতারণার জড়িত থাকায় ২ হাজার মোবাইলসহ ৬ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদেশি নাগরিকদের সংঘবদ্ধ অবস্থান ও অপরাধের ঘটনা নতুন করে ভাবাচ্ছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের।





