আজ (সোমবার, ১২ অক্টোবর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট অফিসের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।
মোবাইল কেড়ে নেয়া ওই কর্মচারীর নাম মো. ইমরান হোসেন। তিনি ওই কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে কর্মরত। হানিফ মেহমুদ এশিয়ান টেলিভিশনের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ও জসিমউদ্দিন জসি বাংলা এডিশনের জেলা প্রতিনিধি।
হানিফ মেহমুদ জানান, দুপুরে পাসপোর্ট অফিসে অনিয়মের খবর পেয়ে তিনি ও তার এক সহকর্মী সেখানে যান। এসময় তারা অনিয়মের ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে অফিসের কর্মচারী মো. ইমরান হোসেন বাধা দেন এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।
এসময় সঙ্গে থাকা সাংবাদিক জসিমউদ্দিন জসিকেও হেনস্তাও করা হয়। পরে সিনিয়র সাংবাদিকরা গিয়ে তাদের ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। এমনকি তাদের পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও স্মার্টফোন ফেরত দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক জসিমউদ্দিন জসি বলেন, ‘আমাদের ভিডিও করতে বাঁধা দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। এমনকি মূল ফটকও বন্ধের নির্দেশ দেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা। প্রায় ২০ মিনিট আমাদের আটকে রাখা হয়। পরে ৪ ঘণ্টা পর আমাদের মোবাইল ফেরত দেন সহকারী পরিচালক।’
আরও পড়ুন:
তবে সাংবাদিকদের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. ইমরান হোসেন।
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়া উচিত হয়নি। পরে তাদের মোবাইল তাদেরকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই পলাশ আলী বলেন, ‘সাংবাদিকদের স্মার্টফোন কেড়ে নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তখনও সহকারী পরিচালকের রুমে সাংবাদিকদের মোবাইল জব্দ ছিল। তবে কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেনি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (সিটিজেএ) সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেন জুয়েল বলেন, ‘সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহ ও অনিয়মের চিত্র ধারণ করা পেশাগত দায়িত্ব। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পাসপোর্ট অফিসে অনিয়মের ভিডিও ধারণ করতে গেলে এক কর্মচারী সাংবাদিকদের বাধা দেন এ ধরনের আচরণ স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্য সংগ্রহের কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আজকের প্রথম অভিযোগ নয় এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।’
এ বিষয়ে জানতে জেলা পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এ কে এম আবু সাঈদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।





