আমদানি পণ্য চালানে এনবিআরের নতুন নির্দেশনা, ক্ষুব্ধ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা

চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর | ছবি: বাসস
0

আমদানি পণ্য চালান পরীক্ষার পর কম বা বেশি পেলে বিল অব লেডিং ও বিল অব এন্ট্রি সংশোধনের পর শুল্কায়নের নির্দেশনা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এতে নথি সংশোধনে জটিলতার কারণে পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় আমদনিকারককে বিপুল অংকের আর্থিক জরিমানা গুনতে হবে বলে দাবি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের। সেই সঙ্গে বাড়বে বন্দরে পণ্যের জট। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছেন, মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানি রপ্তানি ও অর্থ পাচার রোধে এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশের ৯২ শতাংশ পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এসব পণ্য চালানের শুল্কায়নের জন্য বিল অব এন্ট্রি হয় গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার। এর মধ্যে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নির্বাচিত ১০ শতাংশ চালান কনটেইনার খুলে সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষা করা হয়। বিদ্যমান আইনে বিল অব লেডিং অনুসারে কোন চালানে ঘোষণার চেয়ে বেশি পণ্য মিললেও পার্থক্য বেশি না হলে বিল অব এন্ট্রির অ্যাডজাস্টমেন্টে সেটি সংশোধন করে শুল্ক পুন নির্ধারণ করা হচ্ছে। তবে ঘোষণার চেয়ে পণ্য অনেক বেশি হলে বিপুল অংকের জরিমানা গুণতে হয় আমদানিকারককে।

সম্প্রতি এনবিআর বলেছে, কায়িক পরীক্ষায় কোন চালানের প্যাকেজ বা ওজন বেশি হলে বিএল অপরিবর্তিত রেখে সমন্বয়কে অনিয়ম হিসেবে গণ্য করা হবে। এক্ষেত্রে বিএল ও বিল অব এন্ট্রি সংশোধন করার পর শুল্কায়নের আদেশ দিয়েছে।

এতে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আমদানির প্রবণতা এবং রাজস্ব ফাঁকি ও বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার কমবে দাবি কর্তৃপক্ষের।

আরও পড়ুন:

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. শরীফ আল আমিন বলেন, ‘মূলত এটার ফলে মিথ্যা ঘোষণা কমবে। স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে। কাজের যে দীর্ঘসূত্রিতার কথা বলা হচ্ছে সেটা এটার মধ্যে হবে না।’

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা বলছে, এই আদেশ সরকারের ব্যবসা সহজীকরণ নীতির বিরোধী। এতে পণ্য খালাসে অনেক দেরি হবে ও আমদানিকারককে গুনতে হবে বিপুল অংকের জরিমানা। যাতে বাড়বে পণ্যের দাম।

চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী বলেন, ‘বিএল সংশোধন করে পেপারে সাসপেন্ড করলে ওই মাল আর ডেলিভারি করা সম্ভব না। ওটা নিলামে চলে যাবে। আমরা চাচ্ছি ৪ দিনের মধ্যে দ্রুত পণ্য ডেলিভারি। আর এখানে যদি এ জটিলতা এ সার্কুলার ইমপ্লিমেন্ট করতে যাই সেটার সাথে এটা মিলে না, সাংঘর্ষিক।’

চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক মোরশেদুল আলম বলেন, ‘বিএল ইস্যু করে বিদেশে, এক্সপোর্টিং কান্ট্রি। এক্সপোর্টিং কান্ট্রিকে মেসেজ পাঠাতে হবে সে বিএল সংশোধন করে বাংলাদেশে পাঠাবে। এ বিএলটা আবার পাঠিয়ে দিতে হবে। তারপর সে আরেকটা বিএল ইস্যু করে পাঠাবে। এটার শুধু সময় নষ্ট হবে, আমরা মাল নিতে পারবো না। বন্দরে জট হয়ে যাবে।’

যদিও কাস্টম কর্মকর্তারা বলছেন, প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য খালাসে ১০ থেকে ১১ দিন সময় লাগে। পণ্য খালাসে জটিলতা নিরসনে বিল অব লেডিংয়ে কোন ভুল হলে সেটি আগের মতো সংশোধনের সুযোগ রাখার আহবান ব্যবসায়ীদের।

ইএ