গত বুধ ও বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে (Cabinet Division) অনুষ্ঠিত বাজেট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, টানা দুদিনের এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন পে-স্কেলের রূপরেখা, খাতভিত্তিক বরাদ্দ এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) কর আহরণের সার্বিক চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। সব দিক পর্যালোচনার পর প্রধানমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামো চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত (Green Signal) দেন।
আরও পড়ুন:
৩ ধাপে বাস্তবায়ন: আসন্ন বাজেটে অতিরিক্ত ৩০ হাজার কোটি টাকা (Pay Scale Implementation Strategy)
অর্থ মন্ত্রণালয়ের (Ministry of Finance) উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন কাঠামোতে বেতন পাবেন, এ নিয়ে এখন আর কোনো সংশয় নেই।’ অর্থমন্ত্রীর আসন্ন বাজেট বক্তৃতার খসড়াতেও এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পুরো কর্মপরিকল্পনাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেলের প্রস্তাব পুরোপুরি কার্যকর করতে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ core ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। বিশাল এই ব্যয়ের চাপ সামাল দিতেই সরকার কৌশলগতভাবে ধাপে ধাপে এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে:
প্রথম ধাপ: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছর (Fiscal Year) থেকেই নতুন বেতন কাঠামোর অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ধিত মূল বেতনের (Basic Salary) ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এর জন্য আসন্ন বাজেটে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপ: এই ধাপে মূল বেতনের বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে।
তৃতীয় ধাপ: শেষ ধাপে মূল বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ভাতা (Allowances) এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাগুলো পুরোপুরি সমন্বয় করা হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, তিন বছরের এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তের ফলে দেশের সামগ্রিক বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে কোনো চাপ পড়বে না এবং সরকারের নগদ অর্থায়ন ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হবে।
আরও পড়ুন:
সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতন কত হচ্ছে? (Minimum and Maximum Basic Salary)
এর আগে, সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন ২৩ সদস্যের বেতন কমিশন (Pay Commission) তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। বেসামরিক প্রশাসন, জুডিশিয়াল সার্ভিস ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির জন্য সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
কমিশন ও কমিটির খসড়া অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বৈপ্লবিক পরিবর্তনগুলো নিচে দেওয়া হলো:
গ্রেড সংখ্যা: সরকারি চাকরির গ্রেড আগের মতোই ২০টি বহাল থাকছে।
সর্বনিম্ন মূল বেতন: সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার জোর সুপারিশ রয়েছে (১০০% থেকে ১৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি)।
সর্বোচ্চ মূল বেতন: সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বেতন বৈষম্য হ্রাস: একই সঙ্গে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান বা অনুপাত ১:৯.৪ থেকে কমিয়ে ১:৮-এ নামিয়ে আনা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের প্রায় ১৪ লাখ কর্মরত সরকারি কর্মচারী (Government Employees) এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর (Pensioners) বেতন-ভাতা মেটাতে সরকারের বার্ষিক ব্যয় হয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে তারা অত্যন্ত উপকৃত হবেন। উচ্চপর্যায়ের এই নীতিগত বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
একনজরে নবম জাতীয় পে-স্কেলের মূল রুলস (Quick Guide: 9th Pay Scale Checklist)


