আজ (মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এওএবি জানায়, বিইআরসির এ সিদ্ধান্ত দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত সময়ের প্ল্যাটস রেটের গড়, জানুয়ারি-জুন সময়ের পরিবর্তিত প্রিমিয়াম, মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের মূল্য অপরিবর্তিত বিবেচনায় জেট এ-১ এর নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের মূল্য প্রতি লিটার ১১২ দশমিক ৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০২ দশমিক ২৯ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার মূল্য শূন্য দশমিক ৭৩৮৫ ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এওএবির সেক্রেটারি জেনারেল মফিজুর রহমান বলেন, ‘দেশে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। গত ২২ দিনে প্রায় ২৫টি তেলবাহী জাহাজ দেশে এসেছে এবং এসব তেল পূর্বনির্ধারিত মূল্যে কেনা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমেছে। এ অবস্থায় ভবিষ্যৎ মূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কাকে ভিত্তি করে এত বড় পরিসরে মূল্য বাড়ানো যৌক্তিক নয়।’
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক। ভারত ও নেপালে মূল্য অপরিবর্তিত রাখা হলেও পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং মালদ্বীপে ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে বৃদ্ধি প্রায় ৮০ শতাংশ।’
এওএবি মনে করে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দেশের এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়বে এবং অভ্যন্তরীণ রুটের যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত ব্যয় চাপবে। পাশাপাশি জেট ফুয়েলের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে পরিচালন ব্যয় আরও বাড়বে, যা বিমান চলাচল খাতের টেকসই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করবে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
জেট ফুয়েলের মূল্যবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত দ্রুত পুনর্বিবেচনা করে বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য মূল্য নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছে এওএবি। তাদের মতে, এতে দেশের এভিয়েশন খাতের স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।





