টিন সার্টিফিকেট আছে, আয়কর রিটার্ন দেননি? ৫ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে যা জানা জরুরি

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, ই-টিন (e-TIN registration) থাকলেই এবং সময়মতো আয়কর রিটার্ন জমা না দিলেই সবার ৫ হাজার টাকা জরিমানা হবে (5000 taka fine for not submitting income tax return)। এই তথ্যের কারণে সাধারণ করদাতাদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য নয়(e-TIN return non-submission penalty and rules Bangladesh)।

সবার ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা এক অঙ্কের জরিমানা প্রযোজ্য হয় না। আইনগত বিধান এবং করদাতার ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে জরিমানার পরিমাণ নির্ধারিত হয় (Income tax law 2026 Bangladesh penalty rules)।

আরও পড়ুন:

রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানার বিধান ও হিসাব (Income Tax Return Non-Submission Penalty Breakdown)

আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে উপকর কমিশনার জরিমানা আরোপ করতে পারেন (Section 266 income tax ordinance BD)। তবে জরিমানার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত রয়েছে:

  • আগে কখনো আয় নিরূপণ না হয়ে থাকলে: যে সমস্ত করদাতার ক্ষেত্রে পূর্বে কখনো আয় নিরূপণ বা অ্যাসেসমেন্ট হয়নি, তাদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা হলো ৫ হাজার টাকা (Maximum fine for new taxpayers without prior assessment)। এটি সবার ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বসে না।
  • আগে আয় নিরূপণ হয়ে থাকলে: যেসব করদাতার ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে আয় নিরূপণ হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ওপর প্রদেয় করের ৫০ শতাংশ অথবা ১ হাজার টাকা যেটি বেশি, সেই অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা নির্ধারিত হবে।

এছাড়া ন্যূনতম জরিমানা ১ হাজার টাকা এবং ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন:

কারদের জন্য আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক? (Who Must Submit Income Tax Return in Bangladesh)

শুধু ই-টিন আছে বা আয় করমুক্ত সীমার নিচে রয়েছে মানেই রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে এমন নয় (Mandatory tax return submission criteria BD)। এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী নিচের ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের রিটার্ন দাখিল করা আবশ্যক:

  • ১. যাদের বার্ষিক মোট আয় সরকারের নির্ধারিত করমুক্ত সীমার বেশি (Tax free income limit BD)।
  • ২. ফার্মের অংশীদার বা কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক কিংবা শেয়ারহোল্ডার কর্মচারী।
  • ৩. সরকারি চাকরিজীবীসহ আইন দ্বারা নির্দিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণি।
  • ৪. ব্যাংক ঋণ, ক্রেডিট কার্ড নেওয়া, জমি বা সম্পত্তি রেজিস্ট্রি কিংবা নির্দিষ্ট সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে যাদের রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা স্লিপ দাখিল করতে হয়।

আরও পড়ুন:

ই-টিন আছে কিন্তু আয় নেই বা রিটার্ন দেননি—করণীয় কী? (What to Do If You Have e-TIN But No Taxable Income)

অনেকে বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে বা ব্যাংকিং কাজের জন্য অতীতে ই-টিন নিয়েছিলেন, বর্তমানে যাদের কোনো আয় নেই বা করযোগ্য সীমা অতিক্রম করে না। এমন পরিস্থিতিতে যা করণীয়:

  • শুধু আয় কমে গেছে বা বর্তমানে কর দিতে হচ্ছে না বলেই রিটার্ন জমার দায় শেষ হয়ে যায় না।
  • শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কেউ চাইলে টিআইএন বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর অফিসে আবেদন করতে পারেন (How to cancel e-TIN BD), তবে অনুমোদন কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের ওপর নির্ভরশীল।
  • আপনার নামে কোনো বকেয়া রিটার্ন বা নোটিশ রয়েছে কি না তা জানতে এনবিআরের অফিশিয়াল ই-রিটার্ন পোর্টালে (etaxnbr.gov.bd) লগইন করে স্ট্যাটাস যাচাই করতে পারেন।
  • সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো গুজবে কান না দিয়ে নিজের কর পরিস্থিতি ও আইনি বাধ্যবাধকতা যাচাই করে সময়মতো রিটার্ন সম্পন্ন করা বা সংশ্লিষ্ট সার্কেল অফিসে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন:

নতুন আয়কর স্ল্যাব ও করমুক্ত আয়ের সীমা ঘোষণা: কার কত কর দিতে হবে জানুন (New income tax slab and tax-free income limit Bangladesh)

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) প্রস্তাবিত নতুন আয়কর কাঠামোতে সাধারণ করদাতাদের জন্য দারুণ স্বস্তি নিয়ে আসা হয়েছে (New income tax slab Bangladesh update)। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে করের বিভিন্ন স্ল্যাবেও পরিবর্তন এনেছে সরকার, যা ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে করদাতাদের ওপর প্রভাব ফেলবে। নতুন নিয়মে কার কত কর ছাড় মিলছে এবং স্ল্যাবগুলোতে কী পরিবর্তন এসেছে তা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

করমুক্ত আয়ের নতুন সীমা (New Tax-Free Income Limit in Bangladesh)

নতুন আয়কর কাঠামোতে বিভিন্ন শ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা নিম্নরূপ নির্ধারণ করা হয়েছে:

  • সাধারণ করদাতা (পুরুষ): করমুক্ত আয়সীমা আগের ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে (Tax-free limit for general male taxpayers)।
  • নারী ও প্রবীণ নাগরিক (৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব): এই শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত সীমা ৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে (Tax-free limit for women and senior citizens)।
  • প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা: তাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা (Tax-free limit for disabled and transgender taxpayers)।
  • গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাইযোদ্ধা: এই বিশেষ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা সবচেয়ে বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে (Tax-free limit for freedom fighters and July fighters)।

আরও পড়ুন:

সাধারণ করদাতাদের জন্য নতুন কর স্ল্যাব ও হার (New Income Tax Slabs for General Taxpayers)

নতুন কাঠামো অনুযায়ী সাধারণ পুরুষ করদাতাদের আয়ের ওপর ধাপে ধাপে যে হারে কর দিতে হবে:

  • ১. প্রথম ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত: সম্পূর্ণ করমুক্ত (০ শতাংশ)।
  • ২. এর পরবর্তী ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত: ১০ শতাংশ হারে কর।
  • ৩. তার পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত: ১৫ শতাংশ হারে কর।
  • ৪. এর পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত: ২০ শতাংশ হারে কর।
  • ৫. তার পরবর্তী ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত: ২৫ শতাংশ হারে কর।
  • ৬. সর্বোচ্চ আয়সীমা (এর বেশি অবশিষ্ট অংশ): ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

গত অর্থবছরের তুলনামূলক পরিবর্তন (Comparison with Previous Tax Year)

গত অর্থবছর (২০২৫-২৬) পর্যন্ত করমুক্ত আয়সীমা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে সময়ে প্রথম ১ লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হতো। তবে নতুন কাঠামোতে সরকার একদিকে যেমন করমুক্ত আয়সীমা ৫০ হাজার টাকা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে ৫ শতাংশের করস্ল্যাবটি পুরোপুরি তুলে দিয়েছে। এর ফলে সাধারণ করদাতাদের প্রাথমিক স্তরের করের বোঝা অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:







ই-টিন ও আয়কর রিটার্ন জমা না দেওয়ার জরিমানা সম্পর্কিত তথ্য

একনজরে: জরিমানার বিধান, করদাতার ধরন ও এনবিআরের আইনি নিয়মাবলী

আলোচ্য বিষয়

আইনি বিধান ও জরিমানার পরিমাণ

প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও করণীয়

ই-টিন থাকলেই কি জরিমানা?

স্বয়ংক্রিয়ভাবে সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়

সামাজিক মাধ্যমের গুজব; আইন অনুযায়ী উপকর কমিশনার জরিমানা আরোপ করেন

আগে আয় নিরূপণ হয়নি

সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা

ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে ধারা ২৬৬ অনুযায়ী সর্বোচ্চ এই সীমা নির্ধারিত রয়েছে

আগে আয় নিরূপণ হয়েছে

প্রদেয় করের ৫০% অথবা ১,০০০ টাকা

উভয়ের মধ্যে যেটি বেশি হবে, সেটিই সর্বোচ্চ জরিমানার সীমা হিসেবে গণ্য হবে

ন্যূনতম জরিমানা ও বিলম্ব

১,০০০ টাকা এবং দৈনিক ৫০ টাকা

রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা যুক্ত হয়

করণীয় ও অনলাইন পোর্টাল

etaxnbr.gov.bd পোর্টালে যাচাই

নিজের রিটার্ন স্ট্যাটাস চেক করুন এবং প্রয়োজনে কর সার্কেলে যোগাযোগ করুন

আরও পড়ুন:

ই-টিন থাকলে কি রিটার্ন দিতেই হবে (Is return mandatory with e-TIN), আয়কর রিটার্ন না দিলে জরিমানা কত (Income tax return non submission penalty BD), ৫ হাজার টাকা জরিমানা আয়কর রিটার্ন (5000 taka fine income tax return BD), ই-টিন রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন জমা (e-TIN registration and return submission), আয়কর আইন ২০২৩ জরিমানা ধারা (Income tax law 2023 penalty section BD), এনবিআর অনলাইন রিটার্ন দাখিল পোর্টাল (NBR online return submission portal etaxnbr), টিআইএন সার্টিফিকেট আছে রিটার্ন দিইনি (TIN certificate but no return submitted), করমুক্ত আয়সীমা ২০২৬ বাংলাদেশ (Tax free income limit Bangladesh 2026), বকেয়া রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম (Rules for submitting overdue tax return BD), আয় নিরূপণ না হলে জরিমানা কত (Penalty for unassessed taxpayers BD), বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের খাতসমূহ (Mandatory tax return categories BD), ব্যাংক ঋণের জন্য ই-টিন ও রিটার্ন (e-TIN and return for bank loan BD), অলস টিআইএন বা ই-টিন বাতিল করার নিয়ম (How to cancel inactive e-TIN BD), এনবিআর নতুন কর নির্দেশনা ২০২৬ (NBR new tax instruction 2026), অনলাইনে আয়কর রিটার্ন যাচাই করার উপায় (How to check online income tax return status BD)

এসআর