বরিশাল মেডিকেলের শিশু বিভাগে বেডের সংখ্যা ৭০টি। এর মধ্যে হামের জন্য নির্ধারিত বেডের সংখ্যা ৩০টি। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা তিন থেকে চার গুন বেড়েছে। ১৮ এপ্রিল ৩০টি বেডে রোগী ছিলো ১৪৯ জন।
বরিশালসহ আশে পাশের আরও ৫ বা ৬ জেলা থেকে হামে আক্রান্ত রোগীদেরকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসছেন অভিভাবকরা। বর্তমানে হামে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার কারণে প্রতি বেডে একাধিক রোগী রাখার পরও অনেকের জায়গা হচ্ছে মেঝেতে।
স্বজনদের অভিযোগ, হাম ছোঁয়াচে রোগ। এক বেডে তিনজন রাখলে সুচিকিৎসা কিভাবে সম্ভব
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক জানান, হাম রোগীর সংখ্যা যে কোন সময়ের চেয়ে এখন বেশি। সরকারী হাসপাতাল হওয়ায় সকল রোগীকেই ভর্তি করা হচ্ছে। আর বরগুনা জেলায় হামের রোগী বেশি বলে জানান বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন:
শেবাচিমের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ বলেন, ‘যদি ইমিউনিটি কম থাকে তাহলে যেকোনো অসুখ বেশি পরিমাণে আক্রমণ করে।’
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘আতঙ্কিত না হয়ে নরমাল খাবার চালিয়ে যাওয়া। সম্ভব হলে একটা ভিটামিন এ দেয়া। এছাড়া ঘরোয়া চিকিৎসা সম্ভব৷’
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে হামে আক্রান্তের সম্ভাবনা বেশি বলে জানান শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ। এদিকে হামের টিকার প্রতি সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা।
বরিশাল শেবাচিম শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান বিকাশ চন্দ্র নাগ বলেন, ‘শেষ রাউন্ড টিকাদান কর্মসূচী বাংলাদেশে হয় নি। যার ফলে ২০২০ এর পর থেকে বিশেষ করে যেসব বাচ্চারা জন্মগ্রহণ করেছে সবাই আনপ্রটেক্টেড।’
বিএনপি চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, ‘মূল ধারণক্ষমতার কখনো কখনো আট বা নয়গুণ রোগীকে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। ফলে যেটা হচ্ছে চিকিৎসকদের জন্য চাপ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের রোগীদের বিছানা শেয়ার পর্যন্ত করতে হচ্ছে।’
বরিশাল বিভাগে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট মারা গেছে ১৯জন। এর মধ্যে হামে নিশ্চিত মৃত্যু ৩ জন আর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ১৬জন। এ পর্যন্ত বিভাগের জেলা হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৫০৫ জন।





