বিশ্ব থাইরয়েড দিবস আজ: দেশে আক্রান্তদের ৬০ শতাংশই চিকিৎসার বাইরে

বিশ্ব থাইরয়েড দিবস আজ
বিশ্ব থাইরয়েড দিবস আজ | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের চার কোটির বেশি মানুষ থাইরয়েডজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন, যার অন্তত ৬০ শতাংশই থেকে যাচ্ছেন চিকিৎসার বাইরে। একসময় গণহারে আয়োডিন গ্রহণে অতিরিক্ত আয়োডিনজনিত উপসর্গের রোগীও বেড়ে যাচ্ছে দেশে। এমন প্রেক্ষাপটে ২৫ মে পালিত হচ্ছে বিশ্ব থাইরয়েড দিবস।

অকারণে ভালো না লাগা নিয়মিত সমস্যা ছিলো সাভারের লিপির। এই উপসর্গ নিয়েই যান হাসপাতালে। জানতে পারেন, দুই বছরের থাইরয়েড সমস্যা রূপ নিয়েছে ক্যান্সারে।

ভুক্তভোগী লিপি বলেন, ‘খারাপ লাগে, বুক ধড়ফড় করে মাঝে মাঝে। মানে বুঝাইতে পারব না, কি রকম খারাপ লাগে। এখন আমি ভালো আছি, এ একটু সময়ের মধ্যেই খারাপ হয়ে গেছি।’

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগে আসা রোগীদের জটিল সব অভিজ্ঞতা। এই যেমন গাজীপুরের কাপাসিয়া থেকে আসা কোকিলা বেগম। কণ্ঠ বসে গেছে প্রায় সাত মাস হলো, পরে শনাক্ত হয় থাইরয়েড ক্যান্সার।

কোকিলা বেগম বলেন, ‘ছয় মাস হয়ে গেছে এখনো কণ্ঠ আমার ক্লিয়ার হচ্ছে না। থেরাপিও দিছি।’

নরসিংদীর নওশীন। হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, ঘুম কম হওয়া আর অবসাদে ভুগছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘ওজন খুব দ্রুত কমছে, তারপরে হচ্ছে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ছিলো আর ঘুমের সমস্যা, তারপরে হার্ট রেট খুব বাইরে সবসময় বাড়তেই থাকে।’

মানুষের কণ্ঠনালী ও ভোকাল কর্ডের মাঝামাঝি জায়গায় প্রজাপতি আকৃতির অঙ্গটি থাইরয়েড গ্রন্থি নামে পরিচিত। এটি থেকে নিঃসরিত হরমোনই পুরো শরীর নিয়ন্ত্রণ করে। জন্মের পূর্বে দৈহিক ও স্নায়বিক গঠনে প্রধান ভূমিকা রাখে এ গ্রন্থি।

আরও পড়ুন:

হাইপোথাইরয়েড ও হাইপারথাইরয়েড এ দুই ধরণের থাইরয়েডে ভুগছে দেশের চার কোটির বেশি মানুষ। ওজন কমে যাওয়া বা বেড়ে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম, চোখের আকারে অস্বাভাবিক পরিবর্ত, হা কাঁপা, হার্ডবিট কমে যাওয়া, অনিয়মিত পিরিয়ডসহ নানা উপসর্গ দেখা যায় এ রোগে।

থাইরয়েড গ্রন্থির স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম থাকতে দরকার পরিমিত আয়োডিনের। একসময় আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড ফুলে গলগণ্ডসহ নানা উপসর্গ দেখা দিলেও বর্তমান অতিরিক্ত আয়োডিনেও রোগী বাড়ছে বল মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিএমইউ এন্ডোক্রাইনলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শাহজাদা সেলিম বলেন, ‘ইউনিভার্সাল সল্ট আয়োডিনেশন নামে একটা প্রকল্প চালাতেন যাতে সব বাজারজাত লবণে আয়োডিন থাকবে। এ যে বাজারজাত লবণ আমরা খাচ্ছি তাতে কিন্তু কারো কারো লাভ হবে কিন্তু অনেকেরই ক্ষতি হবে। ক্ষতি মানে কি সে কিন্তু হাইপারথাইরয়েড হয়ে যাইতে পারে, উৎপাদন বেড়ে যেতে পারে। কিন্তু তার চেয়েও বড় একটি ঘটনা ঘটে যাচ্ছে, সেটি হলো এ যে সরবরাহ মানে আমরা যে আলাদা করে লবণে আয়োডিন বা অন্যভাবে আয়োডিন পাচ্ছি, এটি কিন্তু দেহের ভিতরে অটোইমিউনিটি তৈরি করছে।’

দেশে যেসব কারণে বন্ধ্যত্ব বাড়ছে তার মধ্যে দ্বিতীয় কারণ থাইরয়েড। একই সঙ্গে ক্যান্সারের রোগগুলোর মধ্যে দেশে শীর্ষ দশের মধ্যে থাইরয়েড ক্যান্সার।

বাংলাদেশ থাইরয়েড সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল বারী বলেন, ‘গ্রন্থিতে যত ক্যান্সার হয় তার ৩০ শতাংশ কিন্তু থাইরয়েড ক্যান্সার। এবং টোটাল থাইরয়েড পেশেন্টের ২ শতাংশই কিন্তু থাইরয়েড ক্যান্সার। ঠিকমত রেডিও আয়োডিন থেরাপি দেন, অপারেশন করেন এবং ট্রিটমেন্ট প্রোটোকল অনুযায়ী ট্রিটমেন্ট করেন, সে ক্ষেত্রে কিন্তু আপনার কোনো সমস্যা নাই। আপনি সারা জীবন ভালো এবং সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।’

দেশে থাইরয়েড নিয়ে এখনও কোনো সামগ্রিক গবেষণা না হলেও চার কোটির বেশি মানুষ থাইরয়েডজনিত সমস্যায় ভুগছে। যাদের অন্তত ৬০ শতাংশই থেকে যান চিকিৎসার বাইরে।

এফএস