দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মন্ডল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সি কৃষক মো. আবু হানিফ। কোমরের ব্যথা নিয়ে সানন্দবাড়ী ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে, কোনো মেডিকেল অফিসার না থাকায় সেবা ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে তাকে।
আবু হানিফ অভিযোগ করে বলেন, ‘এ সানন্দবাড়ী উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র বেশ কিছুদিন হলো নির্মাণ হয়েছে, অথচ হাসপাতালে তেমন কোনো চিকিৎসা পাচ্ছি না।’
জামালপুরে ২৬ লাখ মানুষের জন্য ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে। আর প্রত্যন্ত মানুষের জন্য রয়েছে ২৮টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র। এসব প্রতিষ্ঠানে একজন করে মেডিকেল অফিসার কর্মরত থাকার কথা হলেও ১৯ জনই সংযুক্তিতে রয়েছেন। বেশির ভাগ ডাক্তার ঢাকা ও বিভাগীয় শহরে নিজেদের সুবিধাজনক স্থানে সংযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।
আরও পড়ুন
জেলার ৭ উপজেলার বেশির ভাগ এলাকাই দুর্গম। ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল অফিসার ও প্রশিক্ষিত নার্স নিয়োগ দিলেও তারা কর্মস্থলে না দিয়ে পছন্দের প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তি নিয়ে কাজ করেছেন। এখানে বড় কোনো ডাক্তার নাই। এখানে চিকিৎসা না পেয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
অপরদিকে, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তারের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা।
উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মী বলেন, ‘৬ থেকে ৭ মাস যাবৎ এখানে মেডিকেল অফিসার আসে না, নাই। সে নাকি প্রেশনে আছে অথবা এটাচমেন্টে আছে। সে আসলে আমাদের জন্যে অনেক উপকৃত হতাম এবং কী এলাকার জনগণ অনেক উপকৃত হতো।’
স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হওয়ার কথা স্বীকার করে সিভিল সার্জন জানান, সংযুক্তিতে থাকা ডাক্তারদের তালিকা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সংযুক্তি বাতিলের আবেদন করা হয়েছে।
জামালপুর সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক বলেন, ‘কিছু চিকিৎসক সংযুক্তিতে জামালপুরের বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় তারা কাজ করছে। সেটি আমাদের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অথবা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের এ পদায়নগুলো হয়েছে। তো আমরা কিছুদিন আগে এ সংযুক্তি যারা সংযুক্তিতে যারা অন্যান্য জায়গায় কাজ করছে, তাদের সংযুক্তি বাতিল করার জন্য আমরা আবেদন করেছি এবং তালিকাও পাঠিয়েছি অধিদপ্তরে।’
মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে জেলার প্রতিটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা গতিশীল করবে- এমনটাই প্রত্যাশা এলাকার মানুষের।





