একের পর এক মিসাইল হামলা। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠছে চারপাশ। যেন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে ডেথ সিটিতে। যেখানে জীবনেরই নিশ্চয়তা নেই, সেখানে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন যেন কেবলই দু:স্বপ্ন।
তবে সেই দুঃস্বপ্ন ভেঙে অবশেষে মিললো স্বস্তি। জীবিত ফিরে আসার পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার সুযোগ পেলেন ইরানে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় বিপর্যস্ত ইরানে আটকে পড়া বাংলাদেশির মধ্যে শুক্রবার রাতে প্রথম দফায় দেশে ফিরেছেন ১৮৬ জন। রাত ১টা ৪৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ইরান থেকে বাকু হয়ে ঢাকায় পৌঁছান তারা। যদিও তখনো চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ, ছিলো, স্বস্তির অশ্রু। স্বজনদের কাছে পেয়ে যেন পূর্ণতা পেলো ঈদের আনন্দ।
প্রবাসী একজন বলেন, ‘অনেক আশা ছিলো মায়ের সঙ্গে ঈদ করবো, এখন সে আশা পূর্ণ হলো।’
চারপাশে বোমার শব্দে সবসময় আতঙ্কের মধ্যে ছিলো বলে জানান প্রবাসীরা।
আরও পড়ুন:
ইরান ফেরত এসব প্রবাসীকে বরণ করে নিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর এবং প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী জানান, আটকে পড়া বাংলাদেশিদের উদ্ধার কার্যক্রমে পাঁচটি দেশের দূতাবাস সহায়তা করেছে এবং প্রত্যেক যাত্রীর সব ব্যয় বহন করেছে সরকার।
নুরুল হক নূর বলেন, ‘আজকের যারা এসেছে তাদের অনেকের পাসপোর্ট ছিলো না। ট্রাভেল পাসের ব্যবস্থা করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পাঁচটি দূতাবাস কাজ করেছে এবং এর সহযোগিতা করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সবাই সুস্থভাবে পৌঁছেছে। প্রবাসীদের দেশে ফেরার জন্য দূতাবাসগুলো যৌথভাবে কাজ করেছে।’
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এখনো যারা সেখানে আটকা পড়ে আছেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুই করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘ওখানে যুদ্ধের কী অবস্থা সেটা বিবেচনা করে, তারা যদি আসতে চায় তাহলে তাদের জন্য আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবো। আর যতগুলো চার্টার্ড ফ্লাইট লাগে তার ব্যবস্থা ও করবো।’
এর আগে, বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে গালফ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশে ফেরেন আরও ২৮২ প্রবাসী বাংলাদেশি।





