যদিও বৈঠক শেষে কোনো দেশের সদস্যই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন নি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়েই তারা হোটেল ছাড়েন। তবে সরকারি ভাবে কিছু না জানানো হলেও যৌথ নদী কমিশনের এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরন ইস্যু। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার আগে এটাই ছিল সর্বশেষ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক।
এ বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে পৌঁছান বাংলাদেশের ছয় সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। দলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের সদস্য মহম্মদ আনোয়ার কাদীর। ওই দলে ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড হাইড্রলোজি বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের পরিচালক মো. আবু সৈয়দ, বাংলাদেশ পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. শামসুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মহম্মদ বাকি বিল্লাহ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাব ডিভিশনাল প্রকৌশলী মো. রুমানুজ্জামান।
এছাড়াও ওই টিমে যোগ দেন দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাউন্সিলর (রাজনৈতিক) মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপদূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (রাজনৈতিক) মহম্মদ ওমর ফারুক আকন্দ।
ভারতের নেতৃত্ব দিয়েছেন কেন্দ্রের পানিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দফতরের একজন প্রধান প্রকৌশলী।
এর আগে বৃহস্পতিবার ফারাক্কা বাঁধ ও গঙ্গা নদীর পানি প্রবাহ পরিদর্শন করে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। ফারাক্কায় গঙ্গা নদীতে ভারত-বাংলাদেশ 'জয়েন্ট অবজারভেশন সাইট'এ গিয়ে পানি প্রবাহের বিষয়টি খতিয়ে দেখেন।
গঙ্গা থেকে ফিরে এসে ফিডার ক্যানেলে ব্যারেজ সংলগ্ন স্টলেও পর্যবেক্ষণ চালান উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা থেকে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলটি দুপুরে কলকাতায় এসে পৌঁছায়।
১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি হয়েছিল। ৩০ বছরের সামগ্রিক চুক্তি অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত (শুষ্ক মৌসুম) নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি সরবরাহের কথা উল্লেখ রয়েছে।
চুক্তিতে বলা হয়, নদীতে ৭০ হাজার কিউসেক বা তার কম পানি থাকলে তা প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যেই সমান ভাগে ভাগ হবে। নদীতে ৭০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক পানি প্রবাহ থাকলে বাংলাদেশ পাবে ৪০ হাজার কিউসেক পানি, অবশিষ্ট পানি পাবে ভারত। ৭৫ হাজার কিউসেকের বেশি পানি থাকলে ভারত পাবে ৪০ হাজার কিউসেক পানি, অবশিষ্ট পানি পাবে বাংলাদেশ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে, বাংলাদেশের নতুন সরকার চায় ভারতের সঙ্গে আগের চুক্তির নবায়ন নয়, বরং বাংলাদেশের স্বার্থ ও চাহিদা বিবেচনায় রেখে একটি নতুন ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি।





