অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সুখবর; বাড়তে পারে কানাডার অভিবাসী গ্রহণ

কানাডার পতাকা হাতে এক অভিবাসন প্রত্যাশী
কানাডার পতাকা হাতে এক অভিবাসন প্রত্যাশী | ছবি: সংগৃহীত
0

অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সুখবর জানালো কানাডা। অভিবাসী নেয়া বাড়াতে পারে দেশটি। বাড়তি অভিবাসী গ্রহণ শুরু হতে পারে আগামী বছর থেকেই। যদিও অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কও তুঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যখন নিয়ন্ত্রিতভাবে জনসংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে, তখন বিরোধীদল বলছে; জনশক্তি আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে হবে।

কানাডায় বসবাসের সুযোগ পেলে কে না লুফে নেবে তা! সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ মানুষের স্বপ্ন উত্তর আমেরিকায় স্থায়ী হওয়ার। ইতিবাচক খবর হলো; সে দুয়ার খুলতে যাচ্ছে। অভিবাসন ব্যবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ার পর সরকার সেটি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন ভাবা হচ্ছে, কখন আবার নিয়ন্ত্রিতভাবে অভিবাসন বাড়ানো যায়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় নতুন বিদেশি শিক্ষার্থী আসা প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ কমেছে। অস্থায়ী কর্মী আসাও হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর তিন লাখ আশি হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা নেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। অভ্যন্তরীণ থেকে আগে তা পূরণ করা হবে তবে বিভিন্ন পেশার জন্য বাইরে থেকেও আনা হবে জনশক্তি।

রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট নাজমুল হাসান বলেন, ‘এখনও ঘোষণা করা হয়নি। আর যখন ঘোষণা করবে সরকার তখন বোঝা যাবে কোন কোন সেক্টরের জন্য লোক আসবে।’

এ অবস্থানের বিরোধিতা করছে বিরোধীদল। তাদের বক্তব্য, দেশে বাসস্থানের সংকট, চাকরির অভাব এবং হাসপাতালে চাপ বাড়ছে। তাই নতুন লোক আনা আপাতত পুরোপুরি বন্ধ রাখাই উচিত।

বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন; অর্থনীতি মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধে যেভাবে ভেঙে পড়ছে; তা মোকাবিলায় চাই নিয়ন্ত্রিত অভিবাসন।

রেগুলেটেড কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন কনসালট্যান্ট নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘বর্তমানে কিছু সমস্যা রয়েছে। তারপরও দেশের বিভিন্ন সেক্টর টিকিয়ে রাখার জন্য জনশক্তির প্রয়োজন আছে।’

সরকারও মনে করে, অর্থনীতি চালু রাখতে কিছু নির্দিষ্ট খাতে দক্ষ লোক প্রয়োজন। তাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, কারিগরি পেশা, শিক্ষকতা, পরিবহন এবং ফরাসি ভাষায় দক্ষদের। একই সঙ্গে আবেদনের শর্তও কঠিন করা হয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে কুইবেকের বাইরে একজন শিক্ষার্থী আবেদনকারীকে ২৩ হাজার ৮৪৮ ডলার থাকার খরচ হিসেবে দেখাতে হচ্ছে। পড়াশোনার প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত কিনা, পড়া শেষে কাজের অনুমতি পাওয়া যাবে কিনা এবং বিষয়ের কোড সঠিক কিনা, তা আগে থেকেই যাচাই করতে বলা হয়েছে।

আগামী পহেলা নভেম্বর সরকারকে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের নতুন অভিবাসন পরিকল্পনা পার্লামেন্টে জমা দিতে হবে। তখনই পরিষ্কার হবে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধির কথা বাস্তবে কীভাবে কার্যকরের রূপরেখা আসে।

জেআর