দখলকৃত জমি অভিযোগে উচ্ছেদ চললেও ১৯৪০ সাল থেকে ইজারা নেয়া জমিটি ওয়াকফ বোর্ডেরই বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
দখলকৃত অভিযোগে জমি পুনরুদ্ধারে স্থাপনা ধ্বংসের কাজ চলছিল দিল্লি সৈয়দ ফাইজ এলাহি মসজিদ ও তুর্কমান গেটে কবরস্থানের পাশে। এমন সময়ই হঠাৎ পাথর ছুঁড়তে শুরু করে স্থানীয় প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন বাসিন্দা। দিল্লি পুরসভা ও গণপূর্ত বিভাগের প্রায় ৩০০ কর্মকর্তা সে সময় উপস্থিত ছিলেন ঘটনাস্থলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ছুঁড়লে পুলিশের দিকেও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে উত্তেজিত জনতা।
পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায়, পরিস্থিতি শতভাগ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। দায়ের করা হয়েছে একটি মামলা। এরই মধ্যে আটক হয়েছে কয়েকজন। শতাধিক ভিডিও বিশ্লেষণ করে পাথর ছোঁড়া বাকি ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ভারতের সেন্ট্রাল দিল্লির ডিসিপি নিধিন ভালসান বলেন, ন্যূনতম শক্তি প্রয়োগ করে হামলাকারীদের পিছু হঠতে বাধ্য করেছি আমরা। এরপর থেকে সুষ্ঠুভাবেই কাজ চলছে।
আরও পড়ুন:
জানা যায়, দিল্লি উচ্চ আদালতের নভেম্বরের একটি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে, রামলীলা ময়দানে চলছিল এই উচ্ছেদ কার্যক্রম। প্রায় ৩৯ হাজার বর্গফুট দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধারে দেয়া হয় ওই রায়। দিল্লি ওয়াকফ বোর্ডের ব্যবস্থাপনা কমিটি বৈধ মালিকানার নথি উপস্থাপন করতে পারেনি, এমন সাড়ে আট হাজার বর্গফুট জমির সব স্থাপনা ভেঙে দেয়া হবে বলে ডিসেম্বরে ঘোষণা দেয় দিল্লি পুরসভা। ১৯৪০ সাল থেকে ইজারায় নেয়া এই সাড়ে আট হাজার বর্গফুট জমির মধ্যেই পড়েছে সৈয়দ ফাইজ এলাহি মসজিদ। চলতি সপ্তাহে পুরসভার কর্মকর্তারা এলাকাটি পরিদর্শনের সময়ও স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘এই মসজিদ এই দরগাহ ফাইজ এলাহির নামে। প্রায় ১৭ শতক থেকে এটি আছে। তার মাজার আছে এখানে। কবরস্থান আছে একটা। সব প্রমাণই আছে এই জায়গা-কেন্দ্রিক। শুধু আমরা না, আমাদের পূর্বপুরুষরাও এ জায়গাকে জেনে এসেছেন। রামলীলা ময়দান নির্মাণেরও আগেকার এই এলাকা।’
ওয়াকফ বোর্ডকে ভাড়া দেয়ার বিনিময়ে বিতর্কিত জমিটি ব্যবহারের কথা জানিয়েছে মসজিদের ব্যবস্থাপনা কমিটি। জমিটি বিজ্ঞপ্তিকৃত ওয়াকফ সম্পত্তি দাবি করে আদালতের আদেশ চ্যালেঞ্জও করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ। ওয়াকফ আইনে পরিচালিত বলে ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালেরই এ ধরনের বিরোধ নিষ্পত্তির এখতিয়ার রয়েছে বলে যুক্তি মসজিদ কমিটির।





