স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পৃথক বিবৃতিতে জানান, লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুডকে (আল-জামা আল-ইসলামিয়া) ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ (এফটিও) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কঠোরতম পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা। একই সঙ্গে সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ ফাওজি তাক্কোশকেও বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ দপ্তর (ট্রেজারি বিভাগ) মিশর ও জর্ডানের মুসলিম ব্রাদারহুডকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ (এসডিজিটি) হিসেবে ঘোষণা করেছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এ সংগঠনগুলো ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসকে ‘বস্তুগত সহায়তা’ প্রদান করছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলি স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে লেবানন শাখা হিজবুল্লাহর সঙ্গে মিলে ইসরায়েলের ওপর রকেট হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এ পদক্ষেপে ব্রাদারহুডের আর্থিক উৎসগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এবং সংগঠনগুলোর সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে।
মার্কো রুবিও বলেন, মুসলিম ব্রাদারহুডের সহিংসতা ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড যেখানেই ঘটুক না কেন, তা প্রতিহত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টার এটিই প্রথম ধাপ। যুক্তরাষ্ট্র তার হাতে থাকা সব ধরনের উপায় ব্যবহার করে এদের সম্পদ ও কার্যক্রম খর্ব করবে।
এদিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর ওয়াশিংটন তার চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। তবে মুসলিম ব্রাদারহুড ও এর শাখাগুলো বরাবরই সহিংসতার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
লেবাননের পার্লামেন্ট সদস্য ইমাদ আল-হুত এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আল-জামা আল-ইসলামিয়া একটি বৈধ রাজনৈতিক সংগঠন এবং তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া এই তকমা কেবল মার্কিন ও ইসরাইলি স্বার্থ রক্ষার কৌশল।
জর্ডানের ব্রাদারহুড শাখা, যারা দেশটির ২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় সাফল্য পেয়েছে, তারাও এই নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা মনে করছে, গত এক বছর ধরে গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।
অন্যদিকে মিশর সরকার এই ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপে কাতার ও তুরস্কের মতো মার্কিন মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এ সিদ্ধান্তের ব্যাপক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের রিপাবলিকান গভর্নররা এই অজুহাতে দেশটির অন্যতম প্রধান মুসলিম নাগরিক অধিকার সংস্থা ‘কেয়ার’ (সিএআইআর)-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে কেয়ার এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।





