আরও পড়ুন:
১৯৯৪: প্রথম শিকার ও ভয়ংকর গ্রুমিংয়ের শুরু
তদন্ত নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইন ও গিলেইনের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালে মিশিগানের এক মর্যাদাপূর্ণ আর্টস ক্যাম্প থেকে। সেখানে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরী, যাকে ছদ্মনাম ‘জেন ডো’ (Jane Doe) বলা হয়েছে, তাদের প্রথম শিকার হয়। এপস্টেইন নিজেকে একজন বড় শিল্প পৃষ্ঠপোষক (Art patron) ও বৃত্তি প্রদানকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সেই কিশোরীর বিশ্বাস অর্জন করেন। জেন ডোর বাবা মৃত এবং পরিবারটি আর্থিক সংকটে থাকার সুযোগ নিয়ে এপস্টেইন নিজেকে তাদের ‘গডফাদার’ (Godfather) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের ভূমিকা ও ‘বড় বোন’ ইমেজ
এপস্টেইনের প্রেমিকা গিলেইন ম্যাক্সওয়েল কিশোরীদের জালে আটকানোর মূল কারিগর ছিলেন। তিনি মেয়েদের সাথে ‘বড় বোন’-এর মতো আচরণ করতেন এবং তাদের ভয় কাটাতে সাহায্য করতেন। ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গিলেইন নিজেই মেয়েদের গ্রুমিং (Grooming) করতেন এবং তাদের মধ্যে কৃতজ্ঞতাবোধ তৈরি করতেন। এমনকি যৌন নির্যাতনের আগে মেয়েদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রস্তুত করার দায়িত্বও তিনিই পালন করতেন।
ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট ও মডেলিংয়ের প্রলোভন
এপস্টেইন ও গিলেইন মেয়েদের ‘ভিক্টোরিয়াস সিক্রেট’ (Victoria's Secret)-এর মালিকের সাথে বন্ধুত্বের কথা বলে প্রলুব্ধ করতেন। অভিনেত্রী বা মডেল হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের অন্তর্বাসে ছবি তোলা এবং তথাকথিত ‘ম্যাসাজ’ (Massage) দেওয়ার নাম করে চূড়ান্ত যৌন নির্যাতনের জালে আটকে ফেলা হতো।
আরও পড়ুন:
সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক: ‘যত ছোট, তত ভালো’
নথি অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কটি এমনভাবে তৈরি ছিল যে কিশোরী মেয়েরাই একে অপরকে নিয়ে আসত। নতুন কাউকে নিয়ে আসতে পারলে তাদের ২০০ ডলার পর্যন্ত কমিশন দেওয়া হতো। এপস্টেইনের কুখ্যাত নীতি ছিল— ‘যত ছোট, তত ভালো’ (The younger, the better)। ২০০৪ ও ২০০৫ সালের দিকে তার বাড়িতে আসা মেয়েদের বয়স ছিল মাত্র ১৪ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে।
রহস্যজনক মৃত্যু ও বিচারের পরিসমাপ্তি
২০১৯ সালে যৌন পাচারের (Sex trafficking) দায়ে কারাগারে থাকাকালীন রহস্যজনকভাবে আত্মহত্যা (Epstein suicide mystery) করেন এপস্টেইন। অন্যদিকে, ২০২১ সালে গিলেইন ম্যাক্সওয়েল শিশু পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে প্রকাশিত এই বিশাল নথিগুলো এখন সমাজের উঁচু স্তরের অনেক রাঘববোয়ালদের মুখোশ উন্মোচন করছে।
আরও পড়ুন:
আরও পড়ুন:




