ইরানের রাজধানী তেহরানে আজাদি স্টেডিয়ামের দৃশ্য এটি। বিকট শব্দে বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে চারপাশ। একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দাবি, গেল ৭২ ঘণ্টায় ৩০টি ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দেয়ার পাশাপাশি দুই শতাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। এরইমধ্যে ইরানে প্রাণহানি ১২শ' ছাড়িয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
জবাবে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ইসরাইলের তেল আবিবের একটি ভবনে আগুন ধরে যায়। যদিও হতাহতে খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া, অধিকৃত পশ্চিম তীরের আকাশেও ইরানের বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র দেখা গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনাও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে। নিরাপত্তা হুমকিতে দেশজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে কাতার। বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাহরাইন। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কুয়েতের মার্কিন দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করে খালি করা হয়েছে। এছাড়াও, কুয়েতে আলী আল-সালেম বিমানঘাঁটির দিকেও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব।
আরও পড়ুন:
এমন অবস্থায় ইরানকে কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ কেবল শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জবাবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী লারিজানি বলেছেন যেকোনো মার্কিন আক্রমণ মোকাবিলায় প্রস্তুত আছে ইরানি বাহিনী। কোনো হুমকিই ইরানকে ঠেকাতে পারবে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের শঙ্কা বাড়ছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতিসংঘ। শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিনিয়োগে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।
এদিকে, লেবাননে হিজবুল্লাহ বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে ইসরাইলিরা। বাসিন্দাদের লেবানন ছাড়ার নির্দেশ দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই বিমান ও স্থল অভিযান শুরু করে তারা। হামলার ভয়ে রাজধানী বৈরুত ছেড়ে পালাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। যদিও, হিজবুল্লাহ বলছে, কোনো শর্তেই ইসরাইলের কাছে মাথা নত করবে না তারা।





