গতকাল (সোমবার, ২৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সপ্তাহান্তে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা হয়েছে। তার দাবি, এতে বড় ধরনের কিছু বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং তেহরান একটি চুক্তি চায়। তবে ইরান বলেছে, তারা কোনো আলোচনায় অংশ নেয়নি।
ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ওই চুক্তির ১৫টি দফা ছিল এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইরানের পক্ষ থেকে ফোন আসার পর রোববার এ আলোচনা হয়। এতে তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ অংশ নেন।’
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ইরানের এমন একজনের সঙ্গে কথা বলছেন, যারা দেশটির “শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তি” হিসেবে রয়েছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন একজন ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করছি, যাকে আমি মনে করি সবচেয়ে সম্মানিত এবং নেতা।’
তবে ট্রাম্প বলেন, ‘ওই ব্যক্তি সুপ্রিম লিডার জতবা খামেনি নন এবং তিনি জানেন না, তিনি জীবিত কি না। তিনি পরবর্তী আয়াতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।’
আরও পড়ুন:
তিনি জানান, সোমবার ইরানিদের সঙ্গে আরও ফোনালাপ হবে এবং নিকট ভবিষ্যতে সরাসরি বৈঠকেও আগ্রহী তিনি। এ বিষয়টি মীমাংসার জন্য তিনি ‘পাঁচ দিনের সময়সীমা’ পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখবেন, অন্যথায় ‘বোমাবর্ষণ অব্যাহত’ রাখবেন বলেও ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না। এতে বলা হয়, ট্রাম্পের এ মন্তব্য জ্বালানির দাম কমানো এবং সামরিক পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে সময়ক্ষেপন কেনার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও গতকাল (সোমবার, ২৩ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তিনি জানান, ‘ভুয়া খবর’ আর্থিক ও তেলবাজারকে প্রভাবিত করছে। গালিবাফকে রক্ষণশীল কট্টরপন্থি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানায়, উইটকফ ও কুশনার গালিবাফের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন। ওই কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো এ সপ্তাহের শেষ দিকে পাকিস্তানে একটি বৈঠকের আয়োজনের চেষ্টা করছে এবং ইসরাইল এসব অগ্রগতির বিষয়ে অবগত।




