ইরান যুদ্ধের প্রভাব: বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট, হরমুজ প্রণালি সচল রাখার আশ্বাস

হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি | ছবি: রয়টার্স
0

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন চালকরা। গেল ৪ বছরের মধ্যে দেশটিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে জ্বালানির দাম। জ্বালানি সাশ্রয়ে হোম অফিস চালু করেছে ইন্দোনেশিয়া। মিশরের কায়রোতে সন্ধ্যার পরই বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে দোকানপাট। আপদকালীন পদক্ষেপগুলো পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে ইইউ। এমন অবস্থায় যেভাবেই হোক হরমুজ প্রণালি সচল রাখার আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

২০২২ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ের পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে গ্যালন প্রতি পেট্রোলের দাম ছাড়িয়েছে ৪ ডলার। জ্বালানির এই বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এই অস্থিরতা।

পেট্রোলের উচ্চমূল্যে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পরিবহন চালকরা। জ্বালানির দাম বাড়লেও, বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপাতে পারছে না ফুড ডেলিভারির মালিকরা। মিয়ামি, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে ট্রাক, গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা রয়েছেন উদ্বেগের মধ্যে। এছাড়া, গ্যাসসহ প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে হু হু করে।

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়। জ্বালানি সাশ্রয়ে পহেলা এপ্রিল থেকে কার্যকর হলো সরকারি নানা পদক্ষেপ। স্বাস্থ্য, জননিরাপত্তা ও জরুরি খাত ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সপ্তাহে একদিন হোম অফিস এবং গাড়ি প্রতি দৈনিক ৫০ লিটার জ্বালানি বিক্রির বিধান রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

মিশরের রাজধানী কায়রোর ক্যাফে ও ফুটপাতে সাধারণত গভীর রাত পর্যন্ত উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে জ্বালানি সংকটে সন্ধ্যার পরই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক দোকানের শাটার। সারা রাতের আলোকিত রাজপথগুলোতে এখন সুনসান নীরবতা। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দোকানপাট ও রাস্তার বাতি নিভিয়ে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে শহর কর্তৃপক্ষ। এতে হুমকির মুখে মিশরের পর্যটন খাতও।

জ্বালানির দাম বাড়ার মধ্যেই ট্রেড ইউনিয়ন ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর চাপে এপ্রিলে মাসে শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার। তবে দাম আরও বাড়ার শঙ্কায় আছেন গাড়িচালকরা। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভর্তুকির কারণে সরকারের প্রায় সাড়ে ৩শ’ কোটি ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জ্বালানি বাজারের চলমান অস্থিরতা মোকাবিলায় ২০২২ সালে নেয়া আপদকালীন পদক্ষেপগুলো পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যার মধ্যে আছে গ্রিড ট্যারিফ এবং বিদ্যুতের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব।

এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জোর দিয়ে বলেন, ‘যেকোনো উপায়ে হরমুজ প্রণালি সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিক এই সমুদ্র পথটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।’

ইএ