গোপনে পারমাণবিক অস্ত্রভান্ডার সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছে চীন! দেশটির সিচুয়ান প্রদেশে তৈরি হচ্ছে পরমাণু অস্ত্র। প্রদেশটির জিটং ও পিংটন উপত্যকায় চলছে এ কর্মকাণ্ড। সিএনএন-এর একটি অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে এই তথ্য।
২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নেয়া কিছু উপগ্রহচিত্র এবং চীনা সরকারি নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। উপগ্রহচিত্রে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ইউরেনিয়াম এবং প্লুটোনিয়ামের মতো অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থ উৎপাদনে ব্যবহৃত অবকাঠামো দেখা গেছে।
২০১৯ সাল থেকেই পারমাণবিক শক্তিধর চীন নিজেদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে শুরু করে। সিচুয়ান প্রদেশের এই পরমাণুকেন্দ্রগুলোও সেই উদ্যোগের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এমনকি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি ট্রাম্প প্রশাসনের দাবির সঙ্গেও মিলে গেছে। কারণ হোয়াইট হাউজ দাবি করে আসছে, আধুনিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে তোড়জোড় চালাচ্ছে বেইজিং।
আরও পড়ুন:
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ঐতিহাসিক বেইজিং সফরের কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের। যেখানে চীনের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা দমনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। অন্যদিকে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি- নিউ স্টার্ট-এর মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই নতুন করে মস্কোর সঙ্গে করা চুক্তির চেষ্টায় চীনকেও যুক্ত করতে চাইছেন ট্রাম্প।
যদিও সিচুয়ানের নাটকীয় পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের পথ থেকে সরে আসবে না বেইজিং। যা কূটনৈতিক ও সামরিক ক্ষমতার দিক দিয়ে আরও শক্তিশালী ও উদীয়মান চীন গড়ার জন্য প্রেসিডেন্ট শি-জিনপিংয়ের মূল ভিত্তি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার দেয়া তথ্য বলছে- এই মুহূর্তে বিশ্বে ১২ হাজারের বেশি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। এ তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে থাকার দাবি করলেও; পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রথমে রয়েছে রাশিয়া। দ্বিতীয় অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র এবং তৃতীয় অবস্থানে চীন। আর পেন্টাগনের তথ্য বলছে, চীনের কাছে ৬০০টিরও বেশি পরমাণু অস্ত্র রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বেইজিং এই সংখ্যাটি এক হাজারে নিয়ে যেতে চাইছে বলেও অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।





