আগ্রার তাজমহল থেকে কিছুটা দূরের শহরের নাম ফিরোজাবাদ। ৪ শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যবাহী এ শহরটি ভারতের কাচ তৈরির ডিপো। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়ায় নিভতে বসেছে ‘গ্লাস সিটি’ খ্যাত ফিরোজাবাদের কাচ কারখানার চুল্লির আগুন।
ভাগ্যের পরিহাসে কাজের পূর্ণ মৌসুমে বেকার হয়ে পড়েছেন শত শত দিনমজুর। কাচ গলাতে হিট চেম্বারগুলো সবসময় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় চালু রাখতে হয়, যার অধিকাংশই গ্যাস চালিত। গ্যাসের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা ভারতীয় কারখানাগুলোকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। কারণ তেল মজুত করলেও গ্যাস কম থাকায় শিল্পখাতে সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কা এখন তুঙ্গে।
আরও পড়ুন:
অপারেটররা জানান, গ্যাস সংকটে এরই মধ্যে দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আর বড় বড় কারখানাগুলোতে অর্ধেকের বেশি লোকবল কমিয়েছেন উদ্যোক্তারা। এ অবস্থায় গত এক মাসের উৎপাদন কমেছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি অর্থবছরে ভারতের কাচ রপ্তানি ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পথে ছিল, কিন্তু গেল এক মাসে চালান কমেছে ২০ শতাংশ পর্যন্ত।
গেল বছর ট্রাম্পের চড়া শুল্কের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই গ্যাস সংকট উৎপাদন এবং সরবরাহ-উভয় ক্ষেত্রেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুধু কাচ নয়, বস্ত্রশিল্প থেকে শুরু করে উন্নত প্রযুক্তি- উৎপাদন খাতের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে এনেছে এ জ্বালানি সংকট।





