মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উন্নয়নশীল এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এডিবি।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, সংঘাত যদি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত চলতে থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে এই অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াতে পারে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে, যা আগের বছরের ৫ দশমিক ৪ শতাংশের তুলনায় বেশ কম। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি ২০২৫ সালের চেয়ে বেড়ে ২০২৬ সালে তা ৫ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আর যদি সংঘাত এক বছরের বেশি সময় ধরে চলে, তাহলে ২০২৬ ও ২০২৭ দুই বছরেই প্রবৃদ্ধি প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ আলবার্ট পার্ক বলেন, ‘দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর আমরা আশা করতে পারি দ্রুত এর সমাধান হবে। কিন্তু এ যুদ্ধবিরতি এখনও বেশ ভঙ্গুর। যদি জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতা আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৬ থেকে ২০২৭ সময়ে আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কমে যেতে পারে। একই সময়ে বাড়তে পারে মুদ্রাস্ফীতি।’
এ অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে চীন ও ভারত থেকে শুরু করে জর্জিয়া ও সামোয়া পর্যন্ত মোট ৪৩টি অর্থনীতি। তবে জাপান, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং সাউথ কোরিয়া এ তালিকার বাইরে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ সংকটের বড় প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে এ রুটে বিঘ্ন ঘটায় তেলের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে পরিবহন ও উৎপাদন খাতে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, তবে এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।





