ফের জাতিগত সংঘাতের জেরে থমথমে মণিপুর। গেল সপ্তাহে বোমা হামলায় মেইতেই সম্প্রদায়ের ২ শিশু নিহতের জেরে থেমে থেমে সংঘটিত সংঘর্ষে ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজ্যের পরিস্থিতি।
মঙ্গলবার, শিশু হত্যার ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা বিষ্ণুপুরবাসীর মাঝে একটি গুজব বারুদের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত ইম্ফলের বিমানবন্দর থেকে সাবির আহমেদ নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। তার দেয়া তথ্যমতে, কোয়াকতা এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে গাড়িবহর অভিযানে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। কিন্তু মেইতেই সম্প্রদায়ের কাছে খবর যায়, গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাহিনী নয় বরং কুকি বিদ্রোহী। তারা ৭ এপ্রিলের মতো ঘটনা আবারও ঘটাতে পারে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন:
এর জেরে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়ি অবরোধ করে বিক্ষুব্ধরা। এসময় অন্তত ২টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পাল্টা টিয়ারশেল ছোঁড়ে পুলিশ। মূহুর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো এলাকা। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এর আগেও শিশু নিহতের জেরে রাস্তায় নামা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩ জনের মৃত্যু হয়। এখন পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনায় ৪জনকে আটক করা হয়েছে।
গেল ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুরে বোমা হামলায় প্রাণ হারায় ২ শিশু। ২০২৩ সালে অর্থনৈতিক সুবিধা ও চাকরির কোটা নিয়ে বিরোধের জেরে জাতিগত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু মেইতেই ও খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী কুকি সম্প্রদায়। এর জেরে অন্তত ২৬০ জনের প্রাণহানি ও ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।





