গেলো এক দশকে স্পেনে অভিবাসীদের সংখ্যা ৩ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখে। থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ফাঙ্কাসের মতে, ২০১৯ সাল থেকে দেশটিতে প্রতি চারটি নতুন চাকরির মধ্যে তিনটিই পূরণ করেছে অভিবাসীরা। ২০২২ সাল থেকে স্পেনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অভিবাসীদের অবদান ৪৭ শতাংশ।
সম্প্রতি সাধারণ ক্ষমা কর্মসূচির আওতায় কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের বৈধতার সুযোগ দিয়েছে স্প্যানিশ সরকার। ১৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনে আবেদন চালুর পর ২০ এপ্রলি থেকে সশরীরে আবেদন শুরু হয়। আগামী জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
বৈধতার আশায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আলমেরিয়ার সিটি হলের সামনে ভিড় করছেন অভিবাসীরা। কম্বল ও বালিশ নিয়ে শীতের মধ্যেও সারারাত লাইনে অপেক্ষায় তারা।
এক অভিবাসী বলেন, ‘সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। রাত কাটানোর জন্য কম্বল, বালিশ, মাদুর নিয়ে এসেছি।’
আরও পড়ুন:
অন্য একজন বলেন, ‘শত কষ্ট হলেও আমরা বৈধভাবে স্পেনে বসবাস করতে চায়। রাতভর লাইনে অপেক্ষ করছি।’
অন্য আরেক অভিবাসী বলেন, ‘এই উদ্যোগ আমাদের মতো অবৈধ অভিবাসীদের জীবন বদলে দেবে। স্পেনের অর্থনীতিতে আমরাও অবদান রাখতে চাই।’
এছাড়া, বার্সেলোনা, কাতালান, বিলবাওসহ প্রায় সব শহরের নিবন্ধন অফিসে অভিবাসীদের দীর্ঘ সারি। ভোরের আলো ফুটতেই লাইনে দাঁড়াচ্ছেন তারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর আসছে নিবন্ধনের সুযোগ।
একজন নিবন্ধন প্রত্যাশী বলেন, ‘এখনো অনেকে জানে না তাদের কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন। কারণ অনেকেরই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই।’
আরও একজন বলেন, ‘এখানে অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও সময়মতো সেবা পাচ্ছে না। অনেকেই লাইন ভেঙে ঢুকে পড়ছে।’
ক্রমবর্ধমান বয়স্ক জনগোষ্ঠীর ঘাটতি পূরণে অভিবাসন নীতিকে অর্থনৈতিক সুবিধা হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে স্পেন সরকার। ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসন নীতির মধ্যে স্পেনে এমন উদ্যোগকে মানবিক আখ্যা দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।





