পেন্টাগনের এই পরিকল্পনায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে ইরানের সক্ষমতা নষ্ট করার ওপর বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। মূলত ইরানের দ্রুতগামী অ্যাটাক বোট, মাইন ফেলার জাহাজ এবং উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা—যা ব্যবহার করে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে রেখেছে—সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।
লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন শীর্ষ সামরিক নেতারা
পরিকল্পনার অন্যতম একটি দিক হলো সরাসরি ইরানের সামরিক নেতৃত্বের ওপর আঘাত হানা। বিশেষ করে মার্কিন কর্মকর্তারা যাদের আলোচনা প্রক্রিয়ায় ‘বাধা’ হিসেবে মনে করছেন, তাদের ওপর হামলার প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ওয়াহিদির নামও রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং হাজার হাজার ড্রোন এখনো অক্ষত আছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তেহরান এই সামরিক সরঞ্জামগুলো নতুন কৌশলগত অবস্থানে সরিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে হামলার শঙ্কা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুমকি দিয়েছিলেন যে ইরান আলোচনায় না এলে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং জ্বালানি স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেয়া হবে। সামরিক পরিকল্পনাবিদদের টেবিলে সেই বিকল্পও সক্রিয় আছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, বেসামরিক অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলা যুদ্ধের এক বিতর্কিত ও ভয়াবহ বিস্তৃতি ঘটাবে।
মাঠপর্যায়ে বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ১৯টি মার্কিন জাহাজ এবং ভারত মহাসাগরে আরও ৭টি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরীও আছে। গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নৌ-অবরোধের অংশ হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩৩টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সর্বশেষ গত বুধবার রাতে ভারত মহাসাগরে একটি ‘রাষ্ট্রহীন’ তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য সরাসরি যুদ্ধ শুরুর চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানাচ্ছে। তবে তিনি ইরানের ওপর চাপের মাত্রা কমাতে নারাজ। গত বৃহস্পতিবার ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে চরম কোন্দল চলছে এবং তারা দিশাহারা হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি সচল করাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কারণ এই অচলাবস্থার কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।





