পশ্চিমবঙ্গে ভোটের লড়াই তুঙ্গে: শেষ দফার কেন্দ্রবিন্দুতে ভবানীপুর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা-শুভেন্দু
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা-শুভেন্দু | ছবি: সংগৃহীত
0

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই দফায় ভোট হচ্ছে রাজ্যের ১৪২টি আসনে। তবে সবার আগ্রহের কেন্দ্রে ভবানীপুর। এখান থেকে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

১৯৫১ সালে ভবানীপুর আসনটি গঠন হয়। পরে ১৯৬২ সালে এর নাম পরিবর্তন করে হয় কালীঘাট। ২০০৯ সালে পুনরায় ভবানীপুর আসনটি গঠিত হওয়ার পর থেকে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছে তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গে সবার নজর এখন এই ভবানীপুরে। এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী দলটির সভানেত্রী ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার বিরুদ্ধে লড়ছেন রাজ্য বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে এই শুভেন্দুর কাছেই হেরে গিয়েছিলেন মমতা। এবার শুভেন্দুকে পরাজিত করে নন্দীগ্রামের হারের প্রতিশোধ নেবেন মমতা। এমনটাই প্রত্যাশা তৃণমূলের সমর্থকদের।

২০১১ সালে প্রথমবারের মতো ভবানীপুর আসনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। এরপর ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বিপুল ভোটে জয় পান তিনি। মমতা-শুভেন্দুর পাল্টাপাল্টি চ্যালেঞ্জে এবার সরগরম ভবানীপুর।

আরও পড়ুন:

এক ভোটে হলেও ভবানীপুর আসনে শুভেন্দুকে পরাজিত করবেন বলে প্রত্যয় জানিয়েছেন মমতা। বলেন, তার ধর্ম-বর্ণ-কর্ম সবই এই ভবানীপুর থেকেই।

তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি আমার নমিনেশন যেমন ফাইল করলাম আমি চাই আমার ভবানীপুর কেন্দ্রের পাশাপাশি ২৯৪টা কেন্দ্রেই আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস এবং জোড়া ফুলের প্রতিটা প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য আমি বাংলার মানুষকে অভিনন্দন জানাবো। এখান থেকেই আমার সবকিছু তাই ভবানীপুরের মানুষদের আমার ধন্যবাদ, আমার নমস্কার, আমার সালাম।’

অন্যদিকে, মমতাকে তার কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন না শুভেন্দু অধিকারী। এবারও বিশাল ব্যবধানে জয়ী হবেন বলেও প্রত্যাশা তার।

বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মিনিমাম ২৫ হাজার ভোটে আমি জিতবো। সে আমার প্রতিযোগী নয়। আমি ওর সম্পর্কে কোনো কথা বলবো না পুরো নির্বাচন। নন্দীগ্রাম আন্দোলন তার সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা সবাই জানে। নন্দীগ্রামের জনতা এর দায়িত্ব নেবে ওই আসন ধরে রেখে মার্জিন বাড়িয়ে এ আসনে মুখ্যমন্ত্রীকে আমি দ্বিতীয়বার হারাবো।’

ভবানীপুরের ভোটাররা মমতা-শুভেন্দুর লড়াইকে ভারত-পাকিস্তানের ক্রিকেট ম্যাচের লড়াইয়ের সঙ্গেও তুলনা করছেন।

ভবানীপুরের স্থানীয় ভোটাররা জানান, বলা যাচ্ছে না কে জিতবে। জোড় লড়াই হবে। অন্য কেউ দাঁড়ালে এটা হতো না। শুভেন্দু দা দাঁড়ানোতে এটা হবে। পরিবর্তন দরকার।

তবে, অন্যান্য আসনের মতো ভবানীপুরেও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রয়েছে বিতর্ক। তৃণমূলের দাবি, এখানে ৫১ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, পরিচ্ছন্ন ভোটার তালিকার পর ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে আছে তারা।

ইএ