ইরান যুদ্ধের প্রভাব; আফ্রিকায় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা বিশ্বের বৃহত্তম সার কোম্পানির

ইরান যুদ্ধে আফ্রিকায় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে
ইরান যুদ্ধে আফ্রিকায় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান যুদ্ধের জেরে সার সংকট তৈরি হলে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের বৃহত্তম সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইয়ারা ইন্টারন্যাশনাল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী সভেইন তোরে হোলসেথার বলেন, ‘সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকলে বৈশ্বিক বাজারে একধরনের ‘‘নিলাম পরিস্থিতি’’ তৈরি হবে, যেখানে ধনী দেশগুলো সরবরাহ দখল করে নেবে আর গরিব দেশগুলো পিছিয়ে পড়বে।’

তার ভাষায়, ‘সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো সার এমন দামে পৌঁছাতে পারে, যা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর নাগালের বাইরে চলে যাবে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইউরোপে দুর্ভিক্ষ নাও হতে পারে, কিন্তু খাদ্য কেড়ে নেয়া হবে সবচেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠীর মুখ থেকে।’

বিশ্বের মোট ইউরিয়া সরবরাহের ৩৫ শতাংশ আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইউরিয়ার দাম ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছে ইয়ারা। একই সঙ্গে নাইট্রোজেনভিত্তিক সারের প্রধান কাঁচামাল অ্যামোনিয়ার সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ঝুঁকির কারণে কাতারের মতো কিছু দেশ উৎপাদন স্থগিত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাব-সাহারান আফ্রিকায় শিগগিরই বপন মৌসুম শুরু হবে। এ সময় সারের ঘাটতি হলে স্থানীয় কৃষকেরা বড় ধাক্কায় পড়বেন। অথচ ইউরোপে কৃষকদের জন্য ভর্তুকি সহায়তা থাকলেও আফ্রিকার অনেক দেশে সে ধরনের সহায়তা নেই।

হোলসেথার বলেন, ‘আফ্রিকাতেই সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন আমি। আবারও দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণরাই সবচেয়ে বেশি মূল্য দিচ্ছে।’

এএম