এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এ সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে বেইজিংয়ে গেছেন। প্রথমে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধিদলে তার নাম না থাকলেও পরে ট্রাম্পের আমন্ত্রণে তিনি যোগ দেন। আলাস্কা থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর এই সফরকে সম্ভাব্য ‘ব্রেকথ্রু’র সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।
সূত্রগুলোর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আলিবাবা, টেনসেন্ট, বাইটেড্যান্স ও জেডি.কমসহ কয়েকটি বড় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এইচ২০০ চিপ কেনার লাইসেন্স দিয়েছে। লেনোভো ও ফক্সকনের মতো কিছু ডিস্ট্রিবিউটারও অনুমোদন পেয়েছে। লাইসেন্স অনুযায়ী, প্রতিটি অনুমোদিত গ্রাহক সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার চিপ কিনতে পারবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন সত্ত্বেও বিক্রি এগোয়নি। একটি সূত্র জানিয়েছে, বেইজিংয়ের নির্দেশনার পর চীনা কোম্পানিগুলো পিছিয়ে গেছে। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক গত মাসে এক শুনানিতে বলেন, চীনা সরকার এখনো কোম্পানিগুলোকে চিপ কিনতে দিচ্ছে না, কারণ তারা দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ ধরে রাখতে চায়।
মার্কিন রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ কঠোর হওয়ার আগে চীনের উন্নত চিপ বাজারের প্রায় ৯৫ শতাংশ দখলে ছিল এনভিডিয়ার। গত বছর কোম্পানির মোট আয়ের ১৩ শতাংশ এসেছে চীন থেকে। হুয়াং আগে বলেছিলেন, চীনের এআই বাজারের সম্ভাব্য মূল্য ৫০ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনে এনভিডিয়ার এআই অ্যাক্সিলারেটর বাজারে অংশ কার্যত শূন্যে নেমে এসেছে।
চুক্তি বাস্তবায়নের পথে দুই পক্ষেরই নানা শর্ত জটিলতা তৈরি করেছে। মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, চীনা ক্রেতাদের প্রমাণ করতে হবে যে চিপগুলো সামরিক কাজে ব্যবহার করা হবে না এবং যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি এনভিডিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত মজুত থাকার নিশ্চয়তা দিতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি ব্যবস্থাও করেছে, যাতে বিক্রির ২৫ শতাংশ রাজস্ব যুক্তরাষ্ট্র পায়; এজন্য চিপগুলোকে আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর দিয়ে পাঠাতে হবে।
এই কাঠামো বেইজিংয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা আশঙ্কা করছে, এতে চিপে কারিগরি হস্তক্ষেপ বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকতে পারে। একই সময়ে চীন দেশীয় এআই চিপ উন্নয়নে জোর দিচ্ছে; হুয়াওয়েইসহ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের প্রযুক্তি সামনে আনছে।
ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থিরা এই বিলম্বকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষক ক্রিস ম্যাকগুইর বলেন, ‘চীনে যত বেশি এনভিডিয়া চিপ যাবে, যুক্তরাষ্ট্রের এআই অগ্রাধিকার তত কমবে।’ তার মতে, জাতীয় স্বার্থের চেয়ে করপোরেট স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।





