অর্থনৈতিক চাপ উপেক্ষা: ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংকটে ট্রাম্প

চীনের দিকে যাত্রার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানের ফ্লাইটে উঠছেন
চীনের দিকে যাত্রার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানের ফ্লাইটে উঠছেন | ছবি: সিএনএন
0

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে এমনভাবে দেশ চালাচ্ছেন, যেন তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু বাস্তবতা যখন ভিন্ন কথা বলে, তখনই তিনি নতুন করে হতাশায় পড়েন। চলতি সপ্তাহে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ মার্কিনিদের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে বেফাঁস মন্তব্য করে তিনি তেমনই এক সংকটের জন্ম দিয়েছেন। সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গত মঙ্গলবার ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরান শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে মার্কিনিদের অর্থনৈতিক উদ্বেগ কতটা প্রভাব ফেলছে? উত্তরে তিনি বলেন, ‘একদমই না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান প্রসঙ্গে কথা বলার সময় আমার কাছে একটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো তারা যেন পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। আমি মার্কিনিদের আর্থিক অবস্থার কথা ভাবছি না। কারও কথাই ভাবছি না।’

ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন তার অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে মার্কিনিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। তার এমন কথায় মনে হচ্ছে, দেশের জনগণের অর্থনৈতিক দুরবস্থার বিষয়টি তিনি পাত্তাই দিচ্ছেন না।

অবশ্য রিপাবলিকান নেতারা দ্রুত ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। টেক্সাসের সিনেটর জন করনিন এটিকে ‘উড়িয়ে দেয়ার মতো মন্তব্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের কথা ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে গত মাসে মূল্যস্ফীতির হার ভালো ছিল না এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনতে প্রশাসনের ‘অনেক কাজ বাকি রয়েছে।’

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিনিদের জ্বালানির বাড়তি দাম গুনতে হচ্ছে। ট্রাম্প হয়তো এই অর্থনৈতিক চাপ অস্বীকার করে ইরানকে এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে তিনি কোনো তড়িঘড়ি চুক্তিতে যাবেন না। কারণ, সংঘাতের কারণে ইরানের অর্থনীতি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তেহরানের কর্তৃত্ববাদী সরকার জনগণের অভিযোগের খুব একটা তোয়াক্কা করে না। এর ফলে এক ধরনের অপ্রতিসম যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে ইরানের সহ্যক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি।

তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্য তাকে আরও চাপে ফেলতে পারে। এমনিতেই যুদ্ধটি অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে তার গ্রহণযোগ্যতা কমছে। এর মধ্যে এমন মন্তব্য আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জরিপ বলছে, তিন-চতুর্থাংশ মার্কিনি মনে করেন, তাদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়ে ট্রাম্প যথেষ্ট মনোযোগী নন।

যুদ্ধ শুরুর আগে যদি ট্রাম্প এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনগণকে স্পষ্ট ধারণা দিয়ে সমর্থন আদায় করতেন, তবে এই সংকট হয়তো এড়ানো যেত। কিন্তু তিনি হঠাৎ করেই যুদ্ধ শুরু করেন এবং পরে এর কারণ দর্শানোর চেষ্টা করেন, যা এখনো তার ও রিপাবলিকান দলের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি।

এএম