কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে এবং মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিজয় নিশ্চিত করতে অন্যান্য দেশগুলো একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে। তবে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত নিজের অবস্থানে অনড়। বেইজিং ছাড়ার পর এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি এটি (ইরানের শান্তি প্রস্তাব) দেখেছি। প্রথম বাক্যটিই যদি আমার পছন্দ না হয়, তবে আমি তা ছুড়ে ফেলি।’
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘ বৈঠকের পরপরই এই উত্তেজনার সৃষ্টি হলো। তেহরানের প্রধান কৌশলগত ও জ্বালানি অংশীদার বেইজিং। হরমজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহের ওপর চীন অনেকাংশে নির্ভরশীল। ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান ইস্যুতে কথা বলেছেন, তবে তেহরানকে চাপে ফেলার জন্য বেইজিংকে কোনো অনুরোধ করেননি।
পর্দার আড়ালে পেন্টাগন যেকোনো পরিস্থিতির জন্য সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আদলে নতুন নামে আবারও অভিযান শুরু হতে পারে। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। আগামী সপ্তাহেই ইরানে হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প জানিয়েছেন যে ইরান কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না এবং হরমজ প্রণালি অবশ্যই খুলে দিতে হবে—এই দুই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, ‘শি জিনপিং মনে করেন ইরানের পরমাণু অস্ত্র থাকা উচিত নয়। তিনি হরমজ প্রণালি খুলে দেয়ার পক্ষে। প্রণালিটি বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং গত আড়াই সপ্তাহে ইরানের কোনো ব্যবসা হয়নি। এতে তাদের প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে।’
বিনিময়ে তাইওয়ানের স্বাধীনতা নিয়ে চীনের উদ্বেগের বিষয়েও কথা বলেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শি জিনপিং তাইওয়ানের বর্তমান কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধী। আমরা তাইওয়ান ও ইরান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং দুই বিষয়েই আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া হয়েছে।’ রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শি জিনপিং ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে তাইওয়ান ইস্যুটি ভুলভাবে সামলানো হলে দুই দেশ সরাসরি সংঘাত বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে।





