৪৩ বছর বয়সী স্ট্রিটিং প্রথম কোনো সংসদ সদস্য, যিনি স্টারমারের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিলেন। তিনি বলেন, ‘মাঠে সেরা প্রার্থীদের নিয়ে আমাদের একটি যথাযথ প্রতিযোগিতা হওয়া প্রয়োজন এবং আমি সেই লড়াইয়ে দাঁড়াবো।’ দুই বছর আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা সম্প্রতি তলানিতে ঠেকেছে। গত ৭ মে অনুষ্ঠিত স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন ‘রিফর্ম ইউকে’ দলের অভাবনীয় সাফল্যের পর লেবার পার্টির ভেতর এই অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে।
কিয়ার স্টারমার বর্তমানে তার জনপ্রিয়তায় ধস, নীতির বারবার পরিবর্তন এবং জেফরি এপস্টেইনের এক বন্ধুকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে রয়েছেন। পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করলেও স্ট্রিটিংয়ের এই ঘোষণা তার অবস্থানকে আরও নড়বড়ে করে দিয়েছে। স্ট্রিটিং সতর্ক করে বলেন, ‘গত সপ্তাহে ভোটাররা কেবল লেবার পার্টিকে একটি বার্তাই দেয়নি, তারা সতর্কবার্তাও দিয়েছে। আমরা যদি আমাদের পথ পরিবর্তন না করি, তবে আমরা নাইজেল ফারাজের উত্থান এবং যুক্তরাজ্যের ভেঙে যাওয়ার পথ তৈরি করবো।’
পূর্ব লন্ডনের একটি সরকারি আবাসনে বেড়ে ওঠা স্ট্রিটিং তার বাগ্মিতার জন্য লেবার পার্টিতে পরিচিত। তার স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘ওয়ান বয়, টু বিলস অ্যান্ড আ ফ্রাই আপ’–এ তিনি তার সংগ্রামী শৈশব থেকে শুরু করে বিশ্বখ্যাত কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা এবং রাজনীতিতে উঠে আসার গল্প তুলে ধরেছেন।
লড়াইয়ে স্ট্রিটিং ছাড়াও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের মতো প্রভাবশালী নেতারাও শামিল হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বার্নহামকে এই লড়াইয়ে নামতে হলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে হাউসের একটি বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হতে হবে। সব মিলিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে এখন এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আবহ তৈরি হয়েছে।





