মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিয়ার স্টারমারের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পর শি-পুতিন সম্মেলনকে বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, শি জিনপিং বৈঠকে একটি ‘আরও ন্যায়সংগত ও যুক্তিসংগত’ বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘চীন-রাশিয়া সম্পর্ক আজ যে উচ্চতায় পৌঁছেছে তার মূল কারণ হলো আমাদের গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত পারস্পরিক আস্থা।’ অন্যদিকে পুতিন এই সম্পর্ককে আধুনিক বিশ্বের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও রাশিয়াকে একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরও পড়ুন:
মস্কোর জন্য এবারের সফরের অন্যতম বড় ইস্যু হলো ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ পাইপলাইন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পুতিনের সফরের সময় রশ গ্যাস জায়ান্ট গ্যাজপ্রম এই প্রকল্প নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছিল। তবে বেইজিং এ বিষয়ে এখনো বেশ কৌশলী। গ্যাসের দাম ও অন্যান্য কারিগরি বিষয়ে দুই পক্ষের আলোচনা আরও কয়েক বছর চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরানের সংকটের কারণে জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা এই পাইপলাইন প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুতিন ও ট্রাম্পের সফরের আনুষ্ঠানিকতার ধরনেও পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের জন্য ঝংনানহাইয়ের গোপন উদ্যানে যে আতিথেয়তার আয়োজন করা হয়েছিল, তার চেয়ে পুতিনের এবারের সফরকে অনেক বেশি ‘অকৃত্রিম ও বন্ধুসুলভ’ মনে করা হচ্ছে। যদিও ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘এই দুই নেতার সফরের আনুষ্ঠানিকতা তুলনা করার চেয়ে মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত।’
বৈঠক চলাকালেই চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা ২০০টি বোয়িং বিমান কেনার চুক্তিটি নিশ্চিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বেইজিং ইঙ্গিত দিয়েছে যে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আগ্রহী। এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৪০টি চুক্তি সই হতে পারে এবং একটি ৪৭ পৃষ্ঠার দীর্ঘ যৌথ বিবৃতি প্রকাশের কথা রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা মস্কোর জন্য বেইজিং এখন সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।




