হামলা হলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যের সীমানার বাইরেও; যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের হুমকি

তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিছবি সহ একটি বিলবোর্ড
তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিছবি সহ একটি বিলবোর্ড | ছবি: সংগ্রহীত
0

যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে হামলা চালায়, তবে এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়বে বলে হুমকি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থেকে মাত্র এক ঘণ্টা আগে সরে আসার ঘোষণা দেয়ার পর আজ (বুধবার, ২০ মে) তেহরান এই হুঁশিয়ারি দিলো। ডেইলি সাবাহ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ স্থগিত করে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলার ছয় সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও স্থায়ী সমাধানের আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। চলতি সপ্তাহে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠালেও তাতে এমন কিছু শর্ত রয়েছে যা ট্রাম্প আগেই প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ, সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আটকে থাকা অর্থ ফেরত এবং এই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার।

মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজই হামলার সিদ্ধান্ত নেয়ার মাত্র এক ঘণ্টা আগে আমি তা পিছিয়ে দিয়েছি।’ মূলত কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও কিছুটা সময় দিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যদি পুনরায় আগ্রাসন চালানো হয়, তবে এবারের প্রতিশ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধ অঞ্চলের বাইরেও বিস্তৃত হবে।’ এর আগে ইরান কেবল মার্কিন ঘাঁটি থাকা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলার হুমকি দিলেও এবার তারা আরও দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ইঙ্গিত দিলো।

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য সব নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ব ইতিহাসে জ্বালানি সরবরাহে সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি করেছে। এর জবাবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে। তবে সম্প্রতি চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারকে এই প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি দিয়েছে তেহরান। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের বেইজিং সফরের সময় চীনের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় ইরান। শিপিং মনিটর লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে অন্তত ৫৪টি জাহাজ এই প্রণালি পার হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ হলেও যুদ্ধপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় খুবই নগণ্য।

এদিকে নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে জ্বালানির চড়া দাম ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই যুদ্ধ শেষ করতে তার ওপর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ট্রাম্পের বক্তব্যে কখনো হামলার হুমকি, আবার কখনো শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছানোর আশাবাদ শোনা যাচ্ছে। মঙ্গলবারও তিনি দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হয়ে যাবে।

এএম