মার্কিন পেন্টাগনের মোট মজুতের প্রায় অর্ধেক অর্থাৎ ২০০টিরও বেশি ‘থাড’ (টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স) ইন্টারসেপ্টর ইসরাইলের সুরক্ষায় ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা যুদ্ধজাহাজ থেকে ছোড়া হয়েছে আরও ১০০টির বেশি স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৩ ও স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল-৬ ইন্টারসেপ্টর। এর বিপরীতে ইসরাইল নিজে ব্যবহার করেছে ১০০টিরও কম অ্যারো ইন্টারসেপ্টর এবং প্রায় ৯০টি ডেভিডস স্লিং ইন্টারসেপ্টর। মূলত ইয়েমেনের হুথি ও লেবাননের হিজবুল্লাহর ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতেই তেল আবিব এই ইন্টারসেপ্টরগুলো ব্যবহার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যকার সামরিক সম্পর্কের এই ‘একতরফা সমীকরণ’ নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দেয়া শর্ত অনুযায়ী যুদ্ধ বন্ধ না হলে ইরানে পুনরায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। কিন্তু হাতে মাত্র ২০০টি থাড ইন্টারসেপ্টর অবশিষ্ট থাকায় যুক্তরাষ্ট্র এখন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে একটি মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরান এখনো তাদের ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মোবাইল লঞ্চার অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে।
যদি যুদ্ধ পুনরায় শুরু হয়, তবে ইসরাইলের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ভূমিকা নিতে হবে। কারণ ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাদের বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যাটারি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বর্তমানে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, লড়াই আবার শুরু হলে এই ভারসাম্যহীনতা আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। এতে করে মার্কিন সামরিক মজুতের ওপর যেমন চাপ বাড়বে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত সক্ষমতাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।





