আঞ্চলিক এই যুদ্ধ চতুর্থ মাসে পা দিয়েছে। ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং যেকোনো শান্তি চুক্তির প্রধান শর্ত হলো লেবাননে ইসরাইলি হামলার অবসান। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বৃহস্পতিবার রাতে লেবাননের আল মায়াদিন টেলিভিশনকে বলেন, ‘এই যুদ্ধ কেবল তখনই শেষ হবে যখন লেবাননেও সংঘাত থামবে। লেবানন যুদ্ধের সমাপ্তির সাথে অবশ্যই দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টি থাকতে হবে।’
এর আগে হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া ইসরাইল-লেবানন চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেন। কারণ ওই চুক্তিতে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহারের কোনো শর্ত ছিল না এবং হিজবুল্লাহ সেই আলোচনায় যুক্তও ছিল না। অন্যদিকে ইসরাইলও দক্ষিণ লেবাননে তাদের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি হিজবুল্লাহর ত্যাগের প্রশংসা করে বলেন, ‘হিজবুল্লাহ আমাদের মিত্র এবং আমরা তাদের প্রতি সব প্রতিশ্রুতি পালনে বদ্ধপরিকর।’ তিনি ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেন, লেবানন যেকোনো চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। জাতিসংঘ বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) শুক্রবার সতর্ক করেছে যে, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোটি কোটি মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আগের তুলনায় মাত্র সামান্য পরিমাণ বাণিজ্য চলছে। অথচ যুদ্ধের আগে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হতো।
ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে লেবানন ইস্যুতে অগ্রগতি হচ্ছে। তবে বুধবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র লড়াই হয়েছে। ওমানের মিনা আল ফাহাল তেল টার্মিনালে ড্রোন হামলার খবরের পর শুক্রবার সেখানে তেল লোডিং সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়।
দুই পক্ষ বর্তমানে একটি অন্তর্র্বর্তী চুক্তির চেষ্টা করছে, যেখানে পারমাণবিক ইস্যুগুলো ভবিষ্যতের জন্য তুলে রাখা হবে। তেহরান তাদের জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলারের তেল রাজস্ব ব্যবহারের সুযোগ এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেয়ার দাবি জানাচ্ছে। ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো এখন ‘ধ্বংসস্তূপে’ পরিণত হয়েছে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধারের জন্য তার কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। এর জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদ-রেজা হাজি বাবায়ি শুক্রবার বলেন, ট্রাম্প বুঝতে পারছেন না যে ইরানের কাছে ‘সবচেয়ে শক্তিশালী পারমাণবিক বোমা’ হলো এই হরমুজ প্রণালি।





