পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেদুইনদের ‘জাতিগত নিধন’ করছে ইসরাইল: অ্যামনেস্টি

সারিবদ্ধ আটকেদের পাশে ইসরাইলি সেনা
সারিবদ্ধ আটকেদের পাশে ইসরাইলি সেনা | ছবি: সংগৃহীত
0

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেদুইন ও পশুপালকদের পরিকল্পিতভাবে উচ্ছেদ করে ‘জাতিগত নিধন’ চালাচ্ছে ইসরাইল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আজ (বুধবার, ১০ জুন) প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছে।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতিগত নিধন অভিযান চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা পশ্চিম তীর দখলের প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করছে।’ সংস্থাটির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের ‘এরিয়া সি’-তে অন্তত ২৭টি বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায়কে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে অথবা তারা চরম উচ্ছেদের ঝুঁকিতে রয়েছে। উল্লেখ্য, ওসলো চুক্তি অনুযায়ী পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত এই ‘এরিয়া সি’ বর্তমানে ইসরাইলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

‘ফিলিস্তিনি সবকিছু মুছে ফেলা: পশ্চিম তীরের বেদুইন ও পশুপালক সম্প্রদায়ের ওপর ইসরাইলের জাতিগত নিধন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে দায়ী করেছে। সংস্থাটির মতে, নেতানিয়াহু সরকার উগ্র জাতীয়তাবাদী বসতি স্থাপনকারীদের ধর্মীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরাইল সরকার অবৈধ বসতি স্থাপন ও ভূমি দখল প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করেছে। এছাড়া বসতি স্থাপনকারীদের আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারি মদতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অ্যামনেস্টি স্পষ্টভাবে বলেছে, ‘এই জাতিগত নিধন অভিযানটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিচালিত ও পৃষ্ঠপোষকতায় হচ্ছে; এটি কেবল কোনো বিচ্ছিন্ন উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারী বা মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়।’

এএম