গত বছর কাতার সরকার ‘শর্তহীন’ উপহার হিসেবে এ বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রকে দিয়েছিল। ৪০ কোটি ডলার মূল্যের (আনুমানিক) এই জাম্বো জেটটিকে এয়ার ফোর্স ওয়ানের উপযোগী করে তুলতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে সব ধরনের আধুনিকায়ন সম্পন্ন করেছে। শুক্রবার জয়েন্ট বেইস অ্যান্ড্রুজে দেয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিমানটিকে এমন বিলাসবহুল এক উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তর করা হয়েছে, যা এর আগে কেউ কখনো দেখেনি।’
মার্কিন বিমান বাহিনী এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্টকে পরিবহনের কাজে ব্যবহারের আগে নতুন এ বিমানটি প্রাথমিকভাবে কয়েকটি কমিশনিং ফ্লাইট পরিচালনা করবে, যা বিমানটির আধুনিকায়ন পরীক্ষার ‘চূড়ান্ত পরীক্ষা’ হিসেবে বিবেচিত হবে। বিমান বাহিনী আরও জানায়, বিমানটির নিরাপত্তা, যোগাযোগব্যবস্থা, রসদ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলো হালনাগাদ করা হয়েছে। পূর্ববর্তী মালিকের কাছ থেকে আসা যেকোনো সম্ভাব্য হুমকিও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।
বিমানটির ভেতরের অংশে খুব সামান্যই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে বাইরের অংশে লাল, সাদা, নীল ও সোনালি রঙের নতুন আঁচড় দেয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে কাতারের রাজপরিবার এই বিলাসবহুল বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগকে দান করে।
গত বছর এ উপহারের খবর প্রকাশ্যে এলে ট্রাম্পের কিছু মিত্রসহ উভয় শিবিরের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। সমালোচকদের দাবি, এত মূল্যবান উপহার গ্রহণ স্বার্থের সংঘাত তৈরি করতে পারে এবং এটি সংবিধানবিরোধীও হতে পারে। ফেডারেল আইন অনুযায়ী, মার্কিন কর্মকর্তারা মাত্র ৪৮০ ডলারের কম মূল্যের উপহার গ্রহণ করতে পারেন। তবে হোয়াইট হাউস বলেছে, বিমানটি গ্রহণ করা বৈধ এবং ট্রাম্প পদ ছেড়ে দেয়ার পর এটি তার প্রেসিডেন্সিয়াল গ্রন্থাগারে দান করা হবে।
ট্রাম্প তার ভাষণে বলেন, ‘এই বিমানের কারিগরি দক্ষতা দেখলে আপনারা বিশ্বাস করতে পারবেন না। কাঠের গুণগত মান, উপকরণের গুণগত মান, ইঞ্জিনের গুণগত মান—এগুলো বিশ্বের সেরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটি সত্যিই একটি সম্মানের বিষয়। আমি কাতারের আমিরকে ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
কাতারি জেটটি যোগ হওয়ার আগে এয়ার ফোর্স ওয়ান বহরে ১৯৯০ সাল থেকে ব্যবহৃত দুটি বোয়িং ৭৪৭-২০০বি জেট ছিল। বোয়িংয়ের কাছ থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত দুটি ভিসি-২৫বি জেট না আসা পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট এই নতুন বিমানটি ব্যবহার করবেন।





