রুবিও আজ (মঙ্গলবার, ২৩ জুন) সংযুক্ত আরব আমিরাত পৌঁছাবেন। এরপর কুয়েত ও বাহরাইন সফর করে উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থার (জিসিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। চুক্তির খসড়ায় ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর কোনো বিধিনিষেধ না থাকা, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল এবং হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে সৌদি আরব, কাতার ও ওমানসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
জিসিসির ছয়টি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মিত্র এবং চার মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে তারা ওয়াশিংটনকে লজিস্টিক সহায়তা দিয়েছিল। এর ফলে দেশগুলো ইরানি বিমান হামলার শিকারও হয়েছিল। এখন চুক্তির মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সুন্নি নেতৃত্বাধীন এই রাষ্ট্রগুলো ব্যক্তিগতভাবে হতাশ ও বিস্মিত। কারণ তারা শিয়া প্রধান ইরানকে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে। এসব দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার নিরাপত্তা কাঠামোর মূল ভিত্তি। ফলে এসব দেশের অসন্তুষ্টি মার্কিন সামরিক কৌশলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যক্তিগতভাবে রুবিও গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান আলোচনা থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন এবং প্রায় পুরোটাই ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে এই সফরে তাকে এক কঠিন ভারসাম্যের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একদিকে তাকে আঞ্চলিক মিত্রদের আশ্বস্ত করতে হবে, অন্যদিকে ট্রাম্পের সই করা সমঝোতা স্মারকের (MoU) সমালোচনা করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ গতকাল (সোমবার, ২২ জুন) ইরানের তেলের ওপর থেকে ৬০ দিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় বোঝা যাচ্ছে যে ওয়াশিংটন এই চুক্তির বিষয়ে খুবই সিরিয়াস।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু পিক মনে করেন, রুবিও মিত্রদের মনে করিয়ে দিতে পারেন যে ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে ইরানের ওপর অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। যদি এই সমঝোতা ব্যর্থ হয়, তবে তিনি আবারও ইরানে হামলা চালাতে দ্বিধাবোধ করবেন না। গতকাল (সোমবার, ২২ জুন) ট্রাম্প নিজেও এমন হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরান চুক্তি না মানলে তিনি ‘যা করার তা-ই করবেন’।
তবে সমঝোতার শর্তগুলো নিয়ে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা তলে তলে বেশ মর্মাহত। বিশেষ করে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে কোনো কথা না থাকা তাদের দুশ্চিন্তার বড় কারণ। কারণ জিসিসিভুক্ত দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সীমার মধ্যেই অবস্থিত। এছাড়া ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পেয়ে ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে মদত দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলে তারা মনে করছেন। বিশেষ করে বাহরাইনের সুন্নি নেতৃত্ব শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই অর্থ পেয়ে ইরান দেশটির শিয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্রোহ উসকে দিতে পারে। সৌদি কলামিস্ট আবদুর রহমান আল-রাশেদ গত সপ্তাহে লিখেছেন, ‘এই অর্থ মূলত ইরানের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করতেই ব্যয় হবে, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নয়।’





