গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত রান-অফ নির্বাচনে কেইকো তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সানচেজের চেয়ে ৫০ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ১৮ কোটির বেশি ভোটের মধ্যে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ফলাফল নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিতর্কিত ব্যালট পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। পেরুর জাতীয় নির্বাচনী জুরি আগামী ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করার কথা রয়েছে।
৫১ বছর বয়সী কেইকো ফুজিমোরি পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ে। এটি ছিল তার চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা। জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা সব পেরুভীয়দের জন্য শৃঙ্খলা ও আশার পথে হাঁটার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।’
দশকজুড়ে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্রমবর্ধমান অপরাধ প্রবণতার মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পেরুতে গত ১০ বছরে আটজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। কেইকো তার প্রচারণায় ক্রমবর্ধমান চাঁদাবাজি ও ভাড়াটে খুনিদের দমনে তার বাবার মতো ‘কঠোর হাতে’ শাসন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। আলবার্তো ফুজিমোরি মাওবাদী বিদ্রোহীদের দমন এবং চরম মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও পরে দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
রবার্তো সানচেজ এখনো এই ফলাফলের বিপরীতে প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে এর আগে তিনি বিদেশের ভোটের হিসেবে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জানিয়েছিলেন যে, তিনি কেইকোর নেতৃত্বাধীন সরকারকে স্বীকৃতি দেবেন না। কেইকো আগামী ২৮ জুলাই পাঁচ বছরের মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণ করবেন। ১৯ বছর বয়সে ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করা কেইকো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা করেছেন। ফুজিমোরি নামটি তাকে একটি অনুগত ভোট ব্যাংক ও রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক দিলেও তার বাবার আমলের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে অনেক সমালোচকও তৈরি হয়েছে।





