গাজায় প্রাণহানি ছাড়ালো ৭৩ হাজার; ফিলিস্তিন ও ইসরাইলে ১০০০ দিনের ক্ষত

ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের সারিঘেরা একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা
ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনের সারিঘেরা একটি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা | ছবি: সংগৃহীত
0

গাজায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যকার ভয়াবহ যুদ্ধের ১০০০ দিন পূর্ণ হলো। গত বছরের ৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সংঘাতের প্রভাবে গাজা উপত্যকা এখন এক বিশাল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ১০ অক্টোবর থেকে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার ২০ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিকের ভবিষ্যৎ এখনো চরম অনিশ্চয়তার মুখে। অ্যাসোসিয়েট প্রেসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় ৭৩ হাজার ৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও অন্তত ১ হাজার ৫৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৫০ জনের বেশি নারী ও শিশু। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক নিকোলাস ফন আর্ক্স জানিয়েছেন, গাজায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে আরও অনেক কিছু করা প্রয়োজন, যা এখন অনেক দূরের পথ মনে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ এখন হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে আটকে আছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’ গাজার পুনর্গঠনে বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার অগ্রগতি খুব কম। হামাস তাদের কিছু অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখতে চাওয়ায় এবং ইসরাইলের কাছ থেকে আরও ছাড় দাবি করায় বিষয়টি স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে ইসরাইলেও শোক ও বিভক্তির চিত্র দেখা গেছে। ১০০০ দিন পূর্তিতে ইসরাইলিরা গত বছরের হামলার শিকারদের স্মরণে শোক পালন করেছে। দেশটির ভেতরে প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও অক্টোবরের ঘটনার রাষ্ট্রীয় তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। এক জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশের বেশি ইসরাইলি চান না নেতানিয়াহু পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিন।

গাজার মানবিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ তাবু বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবনে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর বিপুল পরিমাণ মানবিক ত্রাণ ও জ্বালানি আসার কথা থাকলেও ইসরাইলি কড়াকড়িতে তা ব্যাহত হচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, আরব বিশ্ব তাদের রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। খান ইউনিসের এক ব্যবসায়ী মাহমুুদ আশৌর বলেন, ‘যুদ্ধের আগে আমাদের সব ছিল, আর এখন আমরা এক মুঠো খাবারের জন্য হাহাকার করছি।’

এএম