একই অঙ্গে কতো রূপ! কখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কখনো তার পূর্বসূরি বারাক ওবামা, কখনো বা ফেসবুক ও মেটার সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ। ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলে বিশ্বের আলোচিত রাজনীতিবিদ আর ব্যবসায়ী নেতাদের মুখাবয়ব ধারণ করছে একটি রোবট।
হিউমেনয়েড বা মানবসদৃশ এই রোবটের নাম রবার্ট। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে যন্ত্রমানব কীভাবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে অনুভূতি প্রকাশে সক্ষম, সেটাই রবার্টের মাধ্যমে দেখানোর চেষ্টা করলেন নির্মাতারা।
আরবি ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবিন ক্র্যামবোয়েকার্স বলেন, এই হচ্ছে রবার্ট দ্য রোবট। যোগাযোগের জন্য আমরা অভিব্যক্তি প্রকাশে সক্ষম রোবট তৈরি করি, যার সাথে আপনি মানবিক আবেগ আদান-প্রদান করতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা বিশ্বের অন্য যেকোনো প্রান্তে নির্মিত কোনো রোবটেরই কোনো অভিব্যক্তি নেই। আমরা একটা স্ক্রিনের মাধ্যমে যন্ত্রের মধ্যে মানুষের এই অভিব্যক্তি ধারণের চেষ্টা করছি।
আরও পড়ুন:
অন্যান্য হিউমেনয়েড রোবটের সাথে রবার্টের পার্থক্য হলো- এটি স্থির নয় এবং অভিব্যক্তিহীন নয়। একটি ডিজিটাল স্ক্রিনের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ভিন্ন ভিন্ন মানবসত্তা ধারণ, ভিন্ন ভিন্ন আবেগ প্রকাশ- হাসতে, রেগে যেতে, দুঃখ জানাতে পারে রবার্ট। যদিও ব্যবহারকারীদের সাথে তার যোগাযোগে অবশ্য শব্দ আদান-প্রদান বা কথা বলা বা শোনার কোনো সুযোগ নেই।
আরবি ল্যাবসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবিন ক্র্যামবোয়েকার্স বলেন, ‘এটা পুরোপুরি একটা রোবট। অন্য মানুষের মতো কেবল একটা রূপ ধারণ করে। এটা কোনো দুষ্টু ফাঁদে পা দেয়া বলে আমি মনে করি না। কারণ আমি যদি এখন ওকে দিয়ে বোকা বোকা কোনো কাজ করাই, আমার মনে হয় না যে মানুষ একে আসল ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করে ভুল করবে। মানুষের নিখুঁত নকল তৈরি আমাদের লক্ষ্য নয়। কোনো সিলিকনের মুখোশ আমরা তৈরি করছি না।’
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত ‘এআই ফর গুড গ্লোবাল সামিট’ প্রদর্শনীতে আনা হয়েছিল রবার্টকে। শিক্ষা, বাণিজ্যসহ নানা খাতে মানুষের সাথে যোগাযোগে সক্ষম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যন্ত্রমানবের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার অংশ হিসেবে ২০২৫ সালে প্রথম রবার্ট দ্য রোবটকে সামনে আনে সুইস প্রতিষ্ঠান আরবি ল্যাবস।




