যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি প্রণালিটি খুলতে সাহায্য করায় গত মাসে বৈশ্বিক তেলের বাজার কিছুটা স্বস্তি পায়। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহ সংকটের সময় এই প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দৈনিক ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
আইইএ জানিয়েছে, জুন মাসে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দৈনিক ৪১ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। তবে এটি যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের চেয়ে দৈনিক ৯৪ লাখ ব্যারেল কম।
স্বাভাবিক হতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি দরকার
সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি বছর দৈনিক ৩৭ লাখ ব্যারেল সংকোচনের পর আগামী বছর সরবরাহ দৈনিক ৭৫ লাখ ব্যারেল বাড়বে। তবে এই পূর্বাভাস হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল উন্নত হওয়ার ওপর নির্ভরশীল।
সংস্থাটি বলেছে, ‘৭ ও ৮ জুলাইয়ের সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পূর্বাভাসকে অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। বাজার আগামী বছর উদ্বৃত্তে ঘুরে দাঁড়াবে বলে যে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল, তা এতে ভেস্তে যেতে পারে।’ তেলের বাজার স্বাভাবিক করতে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি ‘আবশ্যক’ বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
আইইএর ২০২৭ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উৎপাদকরা যদি তেলক্ষেত্র চালু করতে পারেন এবং শোধনাগারগুলো স্বাভাবিক পণ্য চালান পুনরায় শুরু করতে পারে, তাহলে আগামী বছর সরবরাহ চাহিদার চেয়ে দৈনিক ৪৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল বেশি হবে। চলতি বছর এই ঘাটতি দৈনিক ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল।
শিল্পোন্নত দেশগুলোকে পরামর্শদানকারী প্যারিসভিত্তিক এই সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বৈশ্বিক তেলের চাহিদা দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল কমবে। এরপর ২০২৭ সালে চাহিদা আবার ঘুরে দাঁড়িয়ে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল বাড়বে।
স্বল্প মেয়াদে, সংস্থাটি ধারণা করছে, গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ জ্বালানি চাহিদার মৌসুম এবং কম দামের কারণে সংকটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা মে মাসের সর্বনিম্ন বিন্দুর তুলনায় ব্যবহার দৈনিক প্রায় ৮০ লাখ ব্যারেল বাড়বে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘তেলের দাম অনেক কমে যাওয়াও ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহ দিচ্ছে। উজ্জ্বল অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও একই কাজ করছে।’
আজ (শুক্রবার, ১০ জুলাই) গ্রিনিচ মান সময় ৯টা ৩৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার দর দিনের প্রথম দিকে সামান্য কমে প্রতি ব্যারেল ৭৫ দশমিক ৮৫ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বী পূর্বাভাসদাতা ওপেক আগামী ১৩ জুলাই তাদের নিজস্ব মাসিক তেল বাজার প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।
শোধন সংকটে বাড়লো জ্বালানির মুনাফা
আইইএ জানিয়েছে, অপরিশোধিত তেল রপ্তানির চেয়ে তেল শোধন কার্যক্রম এবং তেলের পণ্য চালান হরমুজ পুনরায় খোলার প্রতিক্রিয়ায় ধীরগতিতে সাড়া দিয়েছে। এর সঙ্গে গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদার মৌসুম মিলে পরিশোধিত জ্বালানির বাজারকে সংকটে ফেলে দিয়েছে এবং তেল শোধনের মুনাফার হারকে ঠেলে ওপরে তুলেছে।
সংস্থাটি বলেছে, ‘অপরিশোধিত তেলের বাজারে সরবরাহ ভালো থাকা এবং পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে সংকট—এই বৈপরীত্য জুলাইয়ের শুরুতে ক্র্যাকস ও শোধনাগারের মুনাফাকে চার বছরের সর্বোচ্চে ঠেলে দিয়েছে।’
আইইএ আরও জানিয়েছে, জেট ফুয়েলের সংকটের উদ্বেগ এখন গ্যাসোলিন ও ডিজেলের সরবরাহের সংকটের উদ্বেগে রূপ নিয়েছে। ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধন অবকাঠামোতে হামলা তীব্র করায় রুশ রপ্তানি ভেঙে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সীমাবদ্ধ উৎপাদনের সঙ্গে এটি মিলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আটলান্টিক অববাহিকায় ডিজেলের বাজারে দ্রুত সংকট তৈরি হয়েছে।
আইইএ জানিয়েছে, হরমুজ পুনরায় খোলার পর সাগরে ভাসমান বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিভিন্ন গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করায় জুনে চার মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক মজুত বেড়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল। মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত মজুত থেকে ৩৬ কোটি ব্যারেল টানা কমার পর এই প্রথম মজুত বাড়লো।




